কোটা আন্দোলনকারীদের হামলাতেই রাজধানী ঢাকায় সবুজ ও শাহজাহান নিহত হয়েছেন বলে সুরতহাল প্রতিবেদনে জানিয়েছে পুলিশ। এতে বলা হয়েছে, আন্দোলনকারীদের মারধর ও আঘাতের ফলে ওই দুজনের মৃত্যু হয়েছে।
কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী সহিংসতায় জড়ানোর পর মঙ্গলবার দেশের তিন মহানগরে ছয়জন নিহত হন।
এদের মধ্যে রাজধানীর ঢাকা কলেজ ও সিটি কলেজের সামনের সংঘর্ষে মারা যান সবুজ আলী ও মো. শাহজাহান। সবুজ ঢাকা কলেজের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী এবং ছাত্রলীগের কর্মী। শাহজাহান ছিলেন নিউ মার্কেটের হকার।
পুলিশ বলছে, শাহজাহান রাজনীতিতে জড়িত না থাকলেও তাকে ছাত্রলীগের কর্মী ভেবে আন্দোলনকারীরা মারধর করে। আর এ কারণেই তার মৃত্যু হয়।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সবুজের জানাজা শেষে দাফনের জন্য গ্রামের বাড়ি নীলফামারিতে নেওয়া হয়েছে। জানাজায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেন।
নিহত সবুজের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছেন নিউ মার্কেট থানার এসআই মাহবুব আলী। আর শাহজাহানের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছেন এসআই কামালউদ্দীন মুন্সী।
সবুজের প্রতিবেদনে মাহবুব আলী লিখেছেন, ঢাকা কলেজের সামনের পাকা রাস্তায় বিকেল সোয়া চারটার দিকে কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা স্লোগান দিতে দিতে অজ্ঞাতনামা ছাত্ররা ভিকটিমকে আঘাত করেন।
এসআই মাহবুব সাংবাদিকদের বলেন, কোটা আন্দোলনকারীরা ভিকটিমকে (সবুজ আলীকে) আঘাত করলে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে ডাক্তাররা মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে হকার শাহজাহানের সুরতহাল প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, তার মাথার পেছনে হালকা ফোলা আছে। ডান চোখের নিচে একটি সরকারি ব্যান্ডেজ আছে। তার নিচে একটি ছিদ্র জখম আছে। নাকে রক্তাক্ত জখম আছে।
হামলাকারী ও কারণ সম্পর্কে লেখা হয়েছে, মঙ্গলবার বিকেল পৌনে ছয়টার দিকে কোটা সংস্কার আন্দোলনের অজ্ঞাতনামা শিক্ষার্থীরা স্লোগান দিতে দিতে এসে ভিকটিমকে (শাহজাহান) ছাত্রলীগ ভেবে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়িভাবে অতর্কিতে আঘাত করে। গুরুতর অবস্থায় প্রথমে তাকে পপুলার মেডিকেলে নিয়ে গেলে তারা উন্নত সচিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে রেফার করে। এরপর তাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলে সেখানকার চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।