সহিংসতায় আহত বহু মানুষ ঢাকা মেডিকেলে

কারো পায়ে, কারো পেটে, আবার কারো জখম কোমরে। কতদিনে সুস্থ হতে পারবেন, তা জানা নেই। কেউ যাচ্ছিলেন জুমার নামাজ পড়তে, কেউ বা কর্মক্ষেত্রে। আন্দোলনে না গিয়েও আহত এসব মানুষ চিকিৎসা নিচ্ছেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। আহতদের স্বজনরা দাবি করেছেন সুচিকিৎসার। 

১৯ জুলাই বাড্ডার নতুনবাজার এলাকায় জুমার নামাজ আদায় করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন ৩৫ বছর বয়সী গুলশানের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আবু হানিফ। তিনি জানান, নামাজে যাওয়ার সময় আকস্মিকভাবে কোথা থেকে গুলিটি এসে লেগেছে, তিনি জানেনও না!

আন্দোলন কিংবা সহিংসতায় সম্পৃক্ত না থেকেও সেদিন গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন রামপুরার মাদ্রাসা পড়ুয়া ২২ বছর বয়সী আবু নাইম। তিনি জানান, মাদ্রাসায় পড়েন বলে কোটার সাথে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তবুও কোনো অন্যায় না করেও তিনি এই ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।

এদের সাথে সেদিন রামপুরায় আহত হয়েছিলেন সাংবাদিকরাও। দৈনিক মুক্ত খবরের প্রতিবেদক জানাচ্ছিলেন ভয়াল সেই দিনের কথা। তিনি জানালেন, উড়ে যাওয়া একটি হেলিকপ্টারের ফুটেজ নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তখন হঠাৎই তিনি গুলিবিদ্ধ হন।

আরেক ভুক্তভোগী নরসিংদীর ওয়ালিউল্লা। দোকান থেকে বাসায় খাবার খেতে যাওয়ার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে এখন হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন। ১৬ বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে নির্ঘুম রাত কাটানো মায়ের আকুতি প্রতিদিন দশ-বারো হাজার টাকার জোগান দেয়া তার রিকশা চালক স্বামীর পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।

কোটা আন্দোলনকে পুঁজি করে ঘটা সহিংসতায় আহত বহু মানুষের ঠিকানা ঢাকা মেডিকেল। পরিপূর্ণ সুস্থ তারা কবে হতে পারবেন সেই শঙ্কায় দিন কাটছে এসব মানুষের।