এক দশকে রাজধানীতে সর্বোচ্চ বায়ুদূষণ, মাস্ক পরার পরামর্শ

ঢাকার বাতাসে যেনো বিষ ভেসে বেড়াচ্ছে! শুষ্ক এই মৌসুমে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে বায়ু দূষণ। প্রায় প্রতিদিনই দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষ থাকছে ঢাকা।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনিয়ন্ত্রিত উন্নয়নযজ্ঞ, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, ইট ভাটার ধোঁয়া, বর্জ্য পোড়ানোর কারণে চরম রূপ নিয়েছে দূষণ।

পর্যবেক্ষণ বলছে, গেলো এক দশকের মধ্যে ঢাকার বায়ুদূষণ এখন সর্বোচ্চ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের উদ্যোগ একেবারেই অপ্রতুল।

বায়ু দূষণের মান ৩০০ পার হলেই তাকে ‘দুর্যোগপূর্ণ’ বলা হয়। অর্থাৎ যেসব স্থানে বায়ুর মান এমন থাকে সেখানকার দূষণ পরিস্থিতি ভয়াবহ।

air-pollution1
সেই সূচক ধরেই এবার আসা যাক রাজধানী ঢাকা প্রসঙ্গে। গেলো কয়েকদিন ধরেই ঢাকার বায়ুর মান ৫০০ ছাড়িয়ে যাচ্ছে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউ এয়ারের এই সূচকে প্রায়দিনই দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে থাকছে রাজধানী ঢাকা।

ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ে দীর্ঘসময় ধরে কাজ করছে বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়নকেন্দ্র (ক্যাপস)। সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ বলছে, ঢাকা শহরে বায়ুদূষণের প্রধান উপাদান হলো বাতাসে অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা বা পিএম ২.৫-এর উপস্থিতি। ঢাকার বাতাসে যার উপস্থিতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানমাত্রার চেয়ে প্রায় ৬৭ গুণ বেশি!

ক্যাপসের পরিচালক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলছেন, শুষ্ক এই মৌসুমে প্রচুর উন্নয়ন কাজ হয়। কিন্তু, আইনের তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র নির্মাণ সামগ্রী খোলা ফেলে রাখা হয়। বাড়ে দূষণ। শীতে ইট ভাটায় ইট পোড়ানোর ধুম লাগে। যা ভয়াবহভাবে বায়ুর মান নষ্ট করে। আরো আছে মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ির কালো ধোঁয়া।

Air pol

নগরবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব প্রশ্ন রাখেন, বায়ুদূষণের কারণ-উৎস সবই জানা। তবুও কেনো দূষণ ঠেকানো যাচ্ছে না?

তিনি বলেন, আইনের কঠোর প্রয়োগ ও শাস্তির বিধানই পরিস্থিতি বদলাতে পারে। তবে, সেই জায়গাতে যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে।

বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণের মূল দায়িত্ব সরকার, তার বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের। প্রয়োজন ব্যক্তি পর্যায়ে সচেতনতারও। এদিকে বাতাস দূষিত হওয়ায় ঢাকা মাস্ক পড়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।