ঢাকার ঈদের জামাতের নিরাপত্তায় থাকবে ১৫ হাজার পুলিশ

ঢাকায় ঈদুল ফিতরের সব জামাতের নিরাপত্তায় ১৫ হাজার পোশাকধারী পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে মিলে ‘সমন্বিত নিরাপত্তা বলয়’ গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।

রোববার জাতীয় ঈদগাহের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডিএমপি কমিশনার।
 
ডিএমপি কমিশনার বলেন, আমরা দুই ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিই। একটা হলো ওভার এবং আরেকটা কভার। সবকিছুতো আমরা ডিসক্লোজ করি না। অনেককিছু নিরাপত্তার স্বার্থে গোপন রাখি। ঈদে কোনো ঝুঁকি নেই, আলহামদুলিল্লাহ আমরা রমজান মাসে ঢাকাবাসী অনেক ভালো ছিলাম বলেই আমি মনে করি। আজকে শেষ দিন রমজানের, ইনশাল্লাহ আজকের দিনটিও আমরা ভালোভাবে পার করতে সক্ষম হব। 

তিনি আরও বলেন, ঈদ জামাতের নিরাপত্তায় ১৫ হাজার পোশাকধারী পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। সাথে এটিইউ, সিটিটিসি, ডিবি সবার সমন্বয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজানো হয়েছে। বাংলাদেশ আর্মিও থাকবে। সাবাই মিলে সমন্বিতভাবে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলছি। বরাবরের মতো এবারও জাতীয় ইদগাহে প্রায় ৩৫ হাজার মানুষের অংশগ্রহণে সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

বায়তুল মোকাররমে পাঁচটি ঈদ জামাতের মধ্যে প্রথমটি হবে সকাল সাতটায় জানিয়ে তিনি বলেন, আবহাওয়া প্রতিকূলে থাকলে জাতীয় ঈদগাহের জামাতটি সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ঢাকা মহানগরীতে মোট ১১১টি ঈদগাহে এবং ১ হাজার ৫৭৭টি মসজিদে ১ হাজার ৭৩৯টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। 

এছাড়া, সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে রাজধানীতে তিনটি ও শিয়া সম্প্রদায়ের সাতটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার।

জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের নিরাপত্তা বিধানে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হবে জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, তল্লাশির জন্য আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টর থাকবে। পুরো জাতীয় ঈদগাহ ময়দানসহ আশপাশের এলাকা সিসিটিভি আওতাভুক্ত থাকবে। প্রায় ১০০ সিসিটিভি ইতোমধ্যে স্থাপন করা হয়েছে। কন্ট্রোল রুম থেকে যা সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ঈদগাহে প্রবেশের প্রধান তিনটি গেইটে ব্যারিকেড থাকবে, যেখানে আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশির ব্যবস্থা থাকবে। মৎস্যভবন, প্রেস ক্লাব ও শিক্ষা ভবন এবং ঈদ ময়দানের চারপাশে বহির্বেষ্টনী দিয়ে তল্লাশির ব্যবস্থা থাকবে।ঈদগাহ মাঠ ও আশপাশের এলাকা এসবির সুইপিং টিম এবং সিটিটিসির ডগ স্কোয়াড সুইপিং করবে। সোয়াত ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট স্ট্যান্ডবাই থাকবে। সাদা পোশাকে ডিবি ও সিটিটিসি সদস্যরাও থাকবেন। 

সন্দেহজনক কিছু মনে হলে নিকটস্থ পুলিশ সদস্যকে জানাতে কিংবা প্রয়োজনে ৯৯৯ অথবা পুলিশ কন্ট্রোল রুমে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।

ঈদ ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আওয়ামী লীগের ‘অপতৎপরতা’ নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, আমরা সবসময় সতর্ক আছি। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ না, নিষিদ্ধঘোষিত যে সমস্ত দল আছে, সেসব দল যাতে কোনোরকম অ্যাকটিভিটিজ পরিচালনা না করতে পারে সে ব্যপারে আমরা সদা সতর্ক।