পরিবারের পাঁচজন প্রতিবন্ধীসহ ৯ সদস্যের জীবনযুদ্ধে একমাত্র ভরসা দৃষ্টি প্রতিবন্ধী নুরন্নবী। দোতরার তালে গান গেয়ে উপার্জনের টাকায় কোনোরকমে চলে তাদের সংসার।
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের সাংকার চড়া গ্রামের দোতারাবাদক দৃষ্টি প্রতিবন্ধী নুরন্নবী (২৪)। ৯ সদস্যের পরিবারে বাবা-ভাই-বোন মিলে পাঁচজনই তার মতো দৃষ্টিশক্তিহীন। গ্রামীন জনপদের হাটবাজার আর শহরের বিভিন্ন স্থানে গান গেয়ে জোটা ২০০-৩০০ টাকা দিয়েই চলে অভাব অনটনের সংসারে।
নুরন্নবীর বাবা দৃষ্টি প্রতিবন্ধী এনতাজুল (৪৫) নুরজাহানকে ২৫ বছর বয়সে বিয়ে করে দাম্পত্য জীবন শুরু করেন। তাদের তিন ছেলে ও এক মেয়ে সন্তানের মধ্যে চার সন্তানই জন্মান্ধ হয়ে জন্ম নেন।
এরই মধ্যে বিয়ে করেছেন নুরন্নবী (২৪) ও নুর আলম (২২)। নুরন্নবীর এক ছেলেসহ পরিবারের সদস্য সংখ্যা বর্তমানে ৯ জন। সমাজসেবা থেকে প্রতিমাসে সাড়ে ৭শ টাকা করে পাঁচজন পান তিন হাজার ৭৫০ টাকা। প্রতিবন্ধী পরিবারটির জন্য এ টাকায় জীবন যাপন কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে। এছাড়া করোনাকালেও তাদের খোঁজ নেয়নি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সরকারী কিংবা বেসরকারী প্রতিষ্ঠান এমন অভিযোগ করেছে পরিবারটি।
আরও পড়ুন: শিবগঞ্জে নৌকাডুবি, দুইজনের মৃত্যু, নিখোঁজ সাত
তবে শত কষ্টেও বেঁচে থাকতে নেননি অন্যের সহায়তা। প্রতিবেশী আার স্বজনরা দাঁড়িয়েছে অসহায় এই পরিবারটির পাশে।
করোনাকালীন সময় এমনকি ও ঈদ পার্বণ সহ বিভিন্ন দিবসে সরকারী কিংবা বেসরকারী সংস্থার দেয়া কোন সহযোগিতা পাননি এবক্তব্য স্বীকার করে নিয়ে ইউপি সদস্য মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, ইউনিয়ন পরিষদ ও ব্যাক্তিগতভাবে পরিবারটিকে সহযোগিতা করা হবে।
একই পরিবারের পাঁচজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী থাকার এমন ঘটনা বিরল। অসহায় এই পরিবারটির জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেবেন সরকার ও সংশ্লিষ্টরা এমন প্রত্যাশাই অঞ্চলের মানুষের।
একাত্তর/টিএ