আলো-আঁধারে জোনাকিদের ঘর

গাজীপুরের শ্রীপুরে একই পরিবারের ভাই-বোন-সন্তানসহ রয়েছে আটজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। জোনাকির আলোর মতোই কখনও একটু মিটমিট করে জ্বললেও আবারো অভাবের অন্ধকার নেমে আসে জোনাকিদের পরিবারে।

পরিবারটির কর্তাব্যক্তি ঢোল বাজিয়ে, গান গেয়ে তিন যুগের বেশি সময় ধরে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন। করোনাকালীন সময়ে গানবাজনা বন্ধ থাকায় তারা প্রচণ্ড অর্থ সংকটে ভুগছে। হয়েছে অনেক ধারদেনা। এখনো উপার্জন স্বাভাবিক না হওয়ায় খুবই কষ্টে দিন কাটছে তাদের। জেলা প্রশাসক পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন।


রাতের আঁধারে মিটিমিটি করে জ্বলা জোনাকি পোকার মতই মায়াবী চেহারা  কিশোরী জোনাকির। তার সুরেলা কণ্ঠও মুগ্ধ করে সবাইকে। কিন্তু দৃষ্টি প্রতিবন্ধী থাকায় বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার আলো থেকে থেকে। স্কুলে গিয়ে লেখাপড়া আর সহপাঠীদের সঙ্গে খেলাধুলা করে সময় কাটাতে চায় এই কিশোরী।

জোনাকিদের অভাব অনটনের এই সংসারের মূল কর্তাব্যক্তি আমির সরকার করোনা পরিস্থিতির আগে ঢোল বাজিয়ে, বাউল গান গেয়ে যে উপার্জন করতেন, তা এখন আর নেই। তাই অতি কষ্টে চলছে তাদের জীবন।

স্থানীয়, দুই-একজন সমাজসেবী অবশ্য মাঝে মাঝে তাদের পাশে দাঁড়ান। পরিবারটির জন্য সবাই চাচ্ছেন সরকারি বিশেষ সহায়তা।

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এস এম তরিকুল ইসলাম বলছেন, এই পরিবারের সবাই যাতে প্রতিবন্ধী ভাতা পান সেটা নিশ্চিত করা হবে। এছাড়াও বেশি অসহায় হলে তাদের অন্যান্য সহায়তার আওতায় আনা হবে।


গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের আমির সরকারের মা ছাড়া এই পরিবারের ভাই-বোন সবাই প্রতিবন্ধী।

আমিরের ভাই মো. জাকির হোসেন (২২), বোন হাসিনা বেগম (৩৩) ও নাসরিন আক্তার (২৫), ভাইয়ের মেয়ে জোনাকি (১০), ভাগ্নে মারুফ (০১) ভাগ্নি রুপা (১৩) ও স্ত্রী শিউলি খাতুন (২৮) দৃষ্টি প্রতিবন্ধী।

আরও পড়ুন: এসআইয়ের পুরুষাঙ্গ কেটে ফেললেন স্ত্রী

বর্তমানে অভাব-অনটনের কারণে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটছে। যদিও আটজনের মধ্যে এখন পাঁচজন পাচ্ছে প্রতিবন্ধী ভাতা।


শুধু ওই ভাতা দিয়েই তাদের সংসার চালানো সম্ভব হচ্ছে না। তাই সরকারী বিশেষ সহযোগিতা পেলে এবং চিকিৎসার মাধ্যমে চোখের আলো ফেরানো সম্ভব হলে তাদের পরিবারটি একটু ভালোভাবে বাঁচতে পারবে।


একাত্তর/আরএ