ভূমিহীন হওয়ায় পুলিশের চাকরি হচ্ছে না আসপিয়ার

পুলিশের চাকরির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও ভূমিহীন হওয়ায় চাকরি হচ্ছে না বরিশালের কলেজছাত্রী আসপিয়া ইসলামের।

বরিশালের হিজলার খুন্না-গোবিন্দপুরের মেয়ে আসপিয়া। গত ১৪ থেকে ১৬ই নভেম্বর বরিশাল জেলা পুলিশ লাইনে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় পাশ করে ১৭ই নভেম্বর লিখিত পরীক্ষায় বসেন তিনি। ২৩শে নভেম্বর লিখিত ও ২৪শে নভেম্বর মৌখিক পরীক্ষার ফলাফলে মেধা তালিকায় পঞ্চম স্থান অধিকার করে উত্তীর্ণও হন। তবে চূড়ান্ত নিয়োগের আগে আসপিয়ার কোন স্থায়ী ঠিকানা না পাওয়ায় তার চাকরি হবে না বলে জানিয়ে দেয় প্রশাসন।

তবে যোগ্যতা বলে চাকরি পাওয়ার দাবি নিয়ে বৃহস্পতিবার (০৯ ডিসেম্বর) বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি এসএম আক্তারুজ্জামনের কাছে গিয়েছিলেন ওই কলেজছাত্রী। সেখান থেকেও নিরাশ হয়ে ফিরতে হয় তাকে।

বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যে আলোড়নের সৃষ্টি করেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেয়েটির ছবি সংবলিত একটি পোস্টের মন্তব্যে বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি এস এম আক্তারুজ্জামান লিখেছেন, 'চাকরি হয়েছে জেলা ভিত্তিতে, যার সভাপতি সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপার। আমি ডিআইজি। আমার কাছে অনেকেই জানতে চেয়েছেন। কিন্তু বিষয়টি জানার আমার সুযোগ নেই। কারণ তার পুলিশ ভেরিফিকেশন চলছে। এটা গোপনীয় প্রক্রিয়া। মেয়েটা জানতে পেরেছে, বরিশালে স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় নাকি তার চাকরি হচ্ছে না। সে জানতে এসেছিল। সে জানিয়েছে, তার বাবা-মা দুজনই ভোলা জেলার স্থায়ী বাসিন্দা। তার বা তার বাবা-মায়ের বরিশালে কোনো স্থায়ী ঠিকানা নেই, মানে জমি নেই। আমি তাকে ভেরফিকেশন হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেছি। পুলিশ সুপারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছি। পুলিশ সুপারকে তার বিষয়টি আন্তরিকভাবে দেখতে বলেছি। ওনাকে পরামর্শ দিয়েছি, স্থায়ী ঠিকানা বা নাগরিকত্বের প্রমাণ বা উপায় বের করতে। বরিশালের ডিসিকে বিষয়টি জানিয়েছি। আসপিয়ার বিষয়টি পুলিশে চাকরিপ্রত্যাশীদের কল্যাণে কাজে লাগবে বলে মনে করেন এই কর্মকর্তা।'

আরও পড়ুন: গোপনাঙ্গ হারানো এসআইয়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক, ঢাকায় স্থানান্তর

এবিষয়ে বরিশাল সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সভাপতি অধ্যাপক শাহ সাজেদা বলেন, পুলিশের চাকরিতে যদি এমন নিয়ম থাকে তা বদল করা উচিৎ।

অন্যদিকে বরিশালের জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন হায়দার বলেন, সব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও ভূমি না থাকায় কারো চাকরি না হওয়া দুঃখজনক। মেয়েটির পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্প থেকে জমিসহ একটি ঘর দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন এই কর্মকর্তা।

তবে যদি কোথাও আসপিয়ার পরিবারের ভূমি থাকে তাহলে সেটাই তার স্থায়ী ঠিকানা বলে গণ্য হবে বলে আশ্বাস দেন বরিশালের পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন।

গত ৩৫ বছর ধরে বরিশালে হিজলায় উপজেলায় বসবাস করছে আসপিয়ার পরিবার। তার পরিবারের চার সদস্যও ওই এলাকারই ভোটার। তার বাবা শফিকুল ইসলাম ২০১৯ সালে মারা যান। তিনিও ওই এলাকার ভোটার ছিলেন। বড় ভাই ঢাকায় গার্মেন্টসে এবং মেজ বোন একটি রেস্তোরাঁয় বাবুর্চির কাজ করেন। আর সেজ আসপিয়া হিজলা ডিগ্রি কলেজে বিএতে পড়াশোনা করছেন। ছোট বোন প্রাইমারি স্কুলে পড়ছে।


একাত্তর/টিএ