জেলেদের জীবনযাত্রা-১

দুবলার চরে সুপেয় পানি ও চিকিৎসা সংকটে জেলেরা

নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বছরে পাঁচ মাস মাছ ধরায় ব্যস্ত থাকেন দুবলার চরের জেলেরা। এই সময়টায় পাঁচ হাজারেরও বেশি মাছবাহী ট্রলার ভেড়ে এই চরে। 

এক মৌসুমেই কয়েক লাখ টন মাছ শিকার করেন জেলেরা। তবে, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন এই জেলেরা ভোগেন সুপেয় পানি ও চিকিৎসা সংকটে। 

সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা- দুবলার চর। কুঙ্গা ও মরা পশুর নদের মাঝে দুবলা একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। সেখানে লাল বুক মাছরাঙা, মদনটাক পাখির দেখা মেলে।

হরিণের বিচরণ আর রাসমেলার জন্য চরটির খ্যাতি থাকলেও দুবলা মূলত জেলে গ্রাম। মাছ ধরার সঙ্গে চলে শুঁটকি শোকানোর কাজও।

বর্ষা মৌসুমের ইলিশ শিকারের পর বহু জেলে চার থেকে পাঁচ মাসের জন্য দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ডেরা বেঁধে সাময়িক বসতি গড়ে দুবলা চরে। 

সে সময়ে প্রতিদিন সূর্যের আলো পড়তে না পড়তেই দুবলায় একে একে আসতে থাকে মাছবাহী ট্রলার। সেসব থেকে নামতে থাকে মণকে মণ মাছ। 


গভীর সাগরে টানা চার থেকে পাঁচদিন ধরে মাছ ধরে থাকেন জেলেরা। সেই মাছ নিয়েই ভোর থেকে সকাল দশটা পর্যন্ত চলে বিশাল কর্মযজ্ঞ।

পহেলা নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বছরের পাঁচ মাস সেখানে মাছ ধরার মৌসুম। তাই অক্টোবর থেকেই কর্মচাঞ্চল হয়ে ওঠে দুবলার চর।

কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, বাগেরহাট, পিরোজপুর, খুলনা, সাতক্ষীরা থেকে আসেন জেলেরা। ডেরা বা অস্থায়ী নিবাস গড়ে তোলেন দুবলার চরে। 

মৌসুম শেষে কেউ কেউ লাভের মুখও দেখেন। কিন্তু অধিকাংশ জেলেই বাড়ি ফেরেন বড়সড় লোকসানের বোঝা নিয়ে। হাসির বদলে ঘরে ফেরেন মলিন মুখে।

লইট্যা, চিংড়ি, রুপচাঁদার মতো কমপক্ষে ২৩ প্রজাতির মাছ শিকার করেন জেলেরা। সেই মাছ চলে যায় মহাজনের আড়তে। 

কিন্তু খাবার পানি আর চিকিৎসা সঙ্কট তাদের নিত্য সঙ্গী। চরে একটি পুকুর থাকলেও সেটি যথেষ্ট নয়। তবে সব কিছুর পরেও স্বস্তি এখন জলদস্যু না থাকা। 

আরও পড়ুন: ফাইজারের টিকায় দেশে বুস্টার ডোজ শুরু

জলদস্যুরা এখন স্বাভাবিক জীবনে। চরে তাদের জন্য আছে কাজের সুযোগ। আবারও দস্যুতায় ফিরে গেলে ছাড় দেবে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পাঁচ মাসের মাছ ধরা মৌসুম শেষ হলে বাকি সাত মাস জেলেদের কোন কাজ থাকে না। এই সময়টা কাটে অভাব অনটনে। 

তাই বাকি মৌসুমে সামাজিক নিরাপত্তা বেস্টনীর আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে জেলেরা। জানালের নূন্যতম সহায়তা পেলেই তারা টিকে থাকতে পারবেন।


একাত্তর/আরবিএস