নাসিক নির্বাচন-২০২০

কাউন্সিলর পদে নুর হোসেনের ভাই ভাতিজা নির্বাচিত

নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত সাত খুন মামলায় ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত আসামি নূর হোসেনের ভাই ও ভাতিজা এবারের নির্বাচনে পাশাপাশি দুই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

এতে, নগরীর আইনশৃঙ্খলা নিয়ে শঙ্কা জানিয়েছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা মনে করছেন, খুনির পরিবারের সদস্যরা নির্বাচিত হওয়ায় সন্ত্রাসীরা উৎসাহ পাবে।

রোববারের (১৬ জানুয়ারি) নাসিক নির্বাচনে তিন নম্বর ওয়ার্ডে জিতেছেন সাত খুন মামলার মৃত্যু-দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি নূর হোসেনের ভাতিজা বর্তমান কাউন্সিলর আওয়ামী লীগের শাহজালাল বাদল।

গত বছর নিজের এলাকায় ‘গানবাজনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ’ করে সমালোচনায় এসেছিলেন এই কাউন্সিলর। এ নিয়ে তিনি টানা তিনবার এই পদে জয়ী হলেন।

সেই বক্তব্যের ভিডিও ভাইরাল হয়ে গেলে এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। পরে অবশ্য তিনি সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন।

শাহজালাল যে ওয়ার্ডে জিতেছেন, সেই ৩ নম্বর ওয়ার্ডে নয়টি কেন্দ্রে মোট ভোটার ছিল ২২ হাজার ৬৪৬টি। মোট ভোট পড়েছে ১০ হাজার ১৮০টি। বাতিল হয়েছে ১০টি ভোট।

এ ওয়ার্ডে মোট ছয়জন প্রার্থী কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ৩ হাজার ৭১৯ ভোট বেশি পেয়ে জয় পেয়েছেন শাহজালাল।

শাহজালাল ঠেলাগাড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ৩২০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তোফায়েল হোসেন ঘুড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ৬০১ ভোট।

অন্যদিকে, পাশের চার নম্বর ওয়ার্ডে জিতেছেন নুর হোসেনের ছোট ভাই এবং স্থানীয় বিএনপির নেতা মোহাম্মদ নুর উদ্দিন। নুর হোসেন নিজেও এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন।

আরও পড়ুন: নাসিক কাউন্সিলর: ১৩টি আওয়ামী লীগ ও ১০টি বিএনপির

এই জয় নিয়ে সমালোচনা করেছেন নারায়ণগঞ্জের সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। তবে ভোটাররা বলছেন যিনিই নির্বাচিত হোন, এখন তাদের আশা তিনি কাজের সঙ্গে থাকবেন।

উল্লেখ্য, নির্বাচনকে ঘিরে কাশিমপুর কারাগারের কনডেম সেলে বন্দি নুর হোসেনের ফোন পেয়েছিলেন সিদ্ধিরগঞ্জের বেশ কয়েকজন। এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।


একাত্তর/আরএ