তখনও ভোরের আলো ফোটেনি। প্রতিদিনের মত সেদিন সকালেও গাজীপুরের জয়দেবপুর জংশন রেলস্টেশনে চলাচল করছিলো ট্রেন। এমন সময় দূর থেকে ভেসে আসে শিশুর কান্নার শব্দ। এগিয়ে যান স্থানীয়রা। তারা দেখতে পান- কাপড়ে মোড়া একটি ব্যাগে ফুটফুটে শিশুটি কাঁদছে। খবর দেওয়া হয় স্থানীয় থানায়। পুলিশ এসে উদ্ধার করে শিশুটিকে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন জানান, কিছুক্ষণ পূর্বেই এক নারী ব্যাগটি এখানে ফেলে দ্রুত চলে গেছেন। ধারণা করা হচ্ছে তিনিই শিশুটির মা। প্রতিবন্ধী বলে শিশুটিকে ফেলে গেছেন।
চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার পর যখন কেউই শিশুর দায়িত্ব নিচ্ছিলেন না তখন এগিয়ে আসেন বাকপ্রতিবন্ধী নুরবানু। পুলিশ সদস্যরা নুরবানুর কাছে শিশুটিকে তুলে দেন।
এখন কুলসুমের বয়স আট। গত ছয় বছর ধরে তাকে লালন-পালন করছেন নুরবানু। জয়দেবপুর রেলস্টেশনের কাছেই কুলসুমকে নিয়ে থাকেন তিনি।
রোজ সকালে শিশুটিকে হুইল চেয়ারে বসিয়ে স্টেশনে নিয়ে আসেন নুরবানু। এরপর ট্রেনের যাত্রীদের কাছে ‘হাত পেতে’ যা জোটে তা দিয়েই চলে সংসার।
স্থানীয় কাশেম মিয়া গত তিনবছর ধরেই দেখছেন নুরবানু ও কুলসুমকে। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন সকালে আসে ওরা, আর সেই রাতে যায়। দুপুরে নুরবানু বাড়ি থেকে কুলসুমের জন্য খাবার নিয়ে আসে। কখনো দেখি নানান অঙ্গভঙ্গি করে নুরবানু কুলসুমকে হাসানো চেষ্টা করে।’
নুরবানুর দুটো বাড়ি পরেই থাকেন রহিমা বেগম। তার কাছে জানতে চাইলে তিনি কুলসুমের ব্যাপারে বলেন, ‘মেয়েটাকে ফেলে গেছে এক মহিলা। তারপর পুলিশে পাইয়া নুরবানুর কাছে দিছে বাচ্চাটা। এখন ওই দেখাশোনা করে। সব খোঁজ খবর রাখে। মানুষের থেকে চেয়ে যা পাওয়া যায় তা দিয়েই চলে।’
আরও পড়ুন: পঙ্গু স্বামী-শাশুড়ির একমাত্র অবলম্বন মরজিনা ও তার রিকশা
সংসারে কে কে আছেন এমন প্রশ্নের জবাবে ইশারায় নুরবানু বলেন, তার দুই ছেলে ছিলো। একজন মারা গেছেন- আরেকজন খোঁজ-খবর নেয় না। এখন তার আপন বলতে এই কুলসুম। আর কুলসুমের আপন বলতে শুধুই নুরবানু।
একাত্তর/আরএ