হাতি নিয়ে ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে বনভোজন

আধুনিক প্রযুক্তি এই সময়ে যোগাযোগের জন্যে প্রাণীর ওপর ভর করার দিন শেষ। অথচ এক সময় গরু বা ঘোড়ার গাড়িই ছিল যোগাযোগের অন্যতম বাহন। ধনি মানুষেরা চড়তেন হাতি। 

কেমন ছিল সেই দিন? নতুন প্রজন্মের কাছে সেসব দিন তুলে ধরার জন্যে ঘোড়া এবং হাতির বহর নিয়ে বনভোজনের আয়োজন করা হয় দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে। 

সামনে নানা নকশায় সাজানো হাতি। আর পেছনে ঘোড়ার গাড়ির লম্বা বহর। ১৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে অভিনব এই বহর পৌঁছেছে জাতীয় উদ্যানের আশুরার বিলে।

৪০টি ঘোড়ার গাড়ীতে ছিলো প্রায় আড়াইশো যাত্রী। প্রতিটি গাড়িতে ছিলেন ছয় থেকে সাতজন যাত্রী। ছিল ধুন্ধুমার বাদ্য বাজনা। এর তালে তালে চুটে চলে প্রতিটি গাড়ি। 

প্রতি বছর দরিয়া গ্রামের মানুষ আয়োজন করে পিকনিকের। নানা বয়স আর শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেই এই বনভোজনে। 

আর এক সাথে এত ঘোড়ারগাড়ী দেখতে রাস্তার দুই পাশে ছিলো হাজারো মানুষের ভিড়।

এক সময় ঘোড়ার গাড়ীর প্রচলন থাকলে এখন এর সংখ্যা খুবই কম। হারানো ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এমন আয়োজন জানান আয়োজকরা।  

তারা বলেন, হারানো ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের মাঝে তুলে ধরতে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে এই ব্যতিক্রমী বনভোজনের আয়োজন।

দারিয়া পাবলিক ক্লাব ও লাইব্রেরির আয়োজনে ৪০টি ঘোড়ারগাড়ি বহর নিয়ে নবাবগঞ্জের জাতীয় উদ্যানের আশুড়ার বিলে এই বনভোজনে যায় অংশগ্রহণকারীরা।

এক সময় ঘোড়ারগাড়ীর ব্যাপক প্রচলন থাকলেও এখন তা বিলুপ্তির পথে। বনভোজনের মতো আয়োজনে এই ঐতিহ্যকে তুলে আনায় তাই আয়োজকদের সাধুবাদ জানিয়েছে এলাকাবাসী।


একাত্তর/ এনএ