পাহাড়ি ঢলের পানিতে কিশোরগঞ্জের হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের বাইরের চরাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী নিচু এলাকার বোরো ধানের জমি তলিয়ে গেছে।
এসব আধাপাকা ধান কেটে নিচ্ছেন কৃষকরা। কৃষকদের অভিযোগ, সঠিকভাবে বাঁধ না নির্মাণ করায় প্রতি বছরই পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে যাচ্ছে হাওরের ফসল।
আধাপাকা বোরো ধানগুলো আর ক’দিন পরেই উঠতো গোলায়। হাসি ফোটাত কৃষকের মুখে। কিন্তু উজানের বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলে সেই হাসি এখন মিলিয়ে গেছে।
বিভিন্ন নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে ধানের জমি। নৌকা নিয়ে পানিতে ডুবে থাকা আধাপাকা ধান কাটছেন কৃষকরা।
এখন আধাপাকা ধান বাঁচাতেই ব্যস্ত কৃষকরা। এখন তাদের ব্যস্ততা তলিয়ে যাওয়া আধাপাকা ধানগুলোকে ঘরে তোলার। দিনমজুরও পাওয়া যাচ্ছে না, তাই ভরসা পরিবারের লোকজন।
কৃষকেরা জানান, উজানের ঢলে হঠাৎ করেই পানি বেড়ে যায় কিশোরগঞ্জের ইটনা হাওরের নদী ও খালে। অথচ ২০ দিন পরই শুরু হতো ধান কাটা মৌসুম।
কৃষকদের অভিযোগ, সঠিকভাবে বাঁধ না নির্মাণ করায় প্রতিবছর পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে যাচ্ছে হাওরের ফসল। ফসল করে ক্ষতি গুণতে হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ছাইফুল আলমের মতে, হাওরের ২,৬২ হেক্টর বোরো জমি পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে।
ইটনার পর এবার নিকলীতে প্লাবিত হচ্ছে কাঁচা-পাকা ধানক্ষেত। তবে এখনও প্রধান সব হাওর সুরক্ষিত রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ফসলরক্ষা বাঁধের সুরক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে প্রশাসন।
বুধবার (৬ এপ্রিল) সকালে নিকলীর সিংপুর এলাকার কুনকুনিয়ার হাওরে গিয়ে দেখা গেছে, ধনু নদী তীরের চরের অনেক বোরো জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। নদীর পানি বেড়ে প্লাবিত বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ।
আরও পড়ুন: ফসল রক্ষায় স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ নির্মাণ, স্লুইস গেটের দাবি
জানা গেছে, ভারতের আসামের চেরাপুঞ্জিতে অতিরিক্ত বৃষ্টি হওয়ায় পাহাড়ি ঢলে হঠাৎ করেই দেশের নদীতে পানি বাড়তে থাকে।
সুনামগঞ্জ হয়ে গত শনিবার থেকে প্রবল বেগে পানি ঢুকতে থাকে কিশোরগঞ্জের ইটনার ধনু নদী তীরের নিচু জমিতে। দু’দিনে পানি আরও বেড়ে প্লাবিত হয় নিকলীর কয়েকটি চরাঞ্চলের জমি।