জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে কলেজ ছাত্রী আয়েশা ছিদ্দিকা (২১) হত্যার ঘটনায় আসামি রনির বুকের খামচির রক্তাক্ত দাগ জট খুললো ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার। এ ঘটনায় অভিযুক্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রোববার (৮ মে) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মাছুম আহাম্মদ ভূঞা।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, শুক্রবার দিবাগত রাতে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে ঘরে ঢুকে জয়পুরহাট সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের ১ম বর্ষের ছাত্রী আয়েশা ছিদ্দিকাকে ধর্ষণের চেষ্টার সময়ে গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এঘটনায় নিহতের ভাই মোস্তাক হোসেন বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করে।
পরে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন, পাঁচবিবি উপজেলার রনি মোহন্ত (৩০) ও একই উপজেলার আয়মাপাড়া গ্রামের জাহিদ হাসান ওরফে কামিনি জাহিদ (৩২)।
আইনশৃঙ্খলা সংস্থার নজরদারি ও প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত রনি ও জাহিদ দীর্ঘদিন থেকে আয়েশাকে উত্ত্যক্ত ও কু-প্রস্তাব দিতো, যার কারণে নিহতের ভাই মোস্তাক তাদের শাসিয়েছিল।
শনিবারে পুলিশের নজরদারিতে রনির বুকে রক্তাক্ত খামচির দাগ দেখে তাকে সন্দেহ হলে রনি ও জাহিদ নামে দু’জনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় গত ৭ মে দিবাগত রাত ১টা দিকে অভিযুক্ত ওই দু’জন পরস্পর যোগসাজশে পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে নিহতের বাড়ির দেয়াল টপকিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে। এসময়ে ঘরের দরজা খোলা অবস্থায় মোবাইলে কথা বলছিলেন আয়েশা।
আরও পড়ুন: দুষ্কৃতিকারীদের পিটিয়ে মারার বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেন এমপি
অভিযুক্তরা ঘরের বাইরে প্রায় একঘণ্টা অপেক্ষা করে। এরপর সুযোগ বুঝে তারা ঘরে ঢুকে জোরপূর্বক আয়েশাকে ধর্ষণ চেষ্টা করে। তখন আয়েশা বাধা দিলে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে অভিযুক্তরা। পরে তারা সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
তবে, পুলিশ বলছে ধর্ষণের বিষয়টি এখনো পরিস্কার নয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে পেলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
একাত্তর/আরএ