দুষ্কৃতিকারীদের গণপিটুনি দিয়ে মেরে ফেলার বক্তব্যের জন্য ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন নোয়াখালী-১ (চাটখিল-সোনাইমুড়ি) আসনের সংসদ সদস্য এইচএম ইব্রাহিম।
রোববার (৮ মে) দুপুরে সোনাইমুড়ীর নদনা ইউনিয়নের রুবিরহাটে বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে নিজের বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন, সংসদ সদস্য হিসেবে তার সচেতন হওয়া উচিত ছিল। যদিও মানুষ মাত্রই তার আবেগ, অনুভূতি কাজ করে। যখন সমাজের মানুষের কোনো প্রতিবাদের ঝড় ওঠে, তখন মানুষ হিসেবে আমার ওপর তা আসে। সেক্ষেত্রে হয়তো আবেগপ্রবণ হয়ে আমরা অসাবধানতাবশত অনেক কথাই বলি। যদিও সেটা একজন সংসদ সদস্য হিসেবে বলা ঠিক নয়।
এদিন বিকেলে তিনি ফোনে জানান, একজন আইনপ্রনেতা হয়ে তার এ ধরনের বক্তব্য দেয়া ঠিক হয়নি। তিনি আবেগ তাড়িত হয়ে স্লিব অব টাং হিসেবে এ ধরনের কথা বলেছেন বলে জানান।
এইচএম ইব্রাহিম আরও বলেন, সাামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার যে বক্তব্য ভাইরাল হয়েছে তার আগে ও পরে আরও কথা ছিল। সেগুলো প্রচার করা হয়নি। তারপরেও তার এ ধরনের বক্তব্য দেয়া ঠিক হয়নি। ভবিষ্যতে তিনি আরও সর্তক হবেন।
এর আগে শুক্রবার নোয়াখালী-১ (চাটখিল ও সোনাইমুড়ী) আসনের সংসদ সদস্য এইচ এম ইব্রাহিম নিজ দলের নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের উদ্দেশ্যে বলেন, দুষ্কৃতকারীদের যেখানেই পাবেন গণপিটুনি দিয়ে জায়গায় মেরে ফেলবেন, আমি হুকুম দিয়ে দিচ্ছি এসব দুষ্কৃতকারীদের গণপিটুনি দিয়ে মেরে ফেললে কিছুই হবে না। যদি কেউ মামলা করে আমি মামলার ১নং আসামি হবো, আপনারা কি আমার কথা বুঝতে পারছেন। যদি পুলিশ না পারে আমি আপনাদেরকেও বলে গেলাম-যে আপনারা এসমস্ত দুষ্কৃতকারীদেরকে যারা সমাজের মানুষের ঘুম হারাম করে দিচ্ছে, যারা সমাজে মাদক ছড়িয়ে দিয়ে যুব সমাজকে ধ্বংস করছে, যারা সমাজের মানুষকে অত্যাচার করছে আপনারা তাদের পিটিয়ে মেরে ফেলবেন। তাতে কিছুই হবে না। সেই ঘটনায় যদি আসামি হতে হয় আমি আসামি হবো সে ঘোষণা দিয়ে গেলাম।
আরও পড়ুন: চেকপোস্টে হামলা, ১১ মিশরীয় সেনা নিহত
সংসদ সদস্যের এই বক্তব্যসহ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ৫৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। তার প্রেক্ষিতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
সংসদ সদস্যের এমন বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন নেট নাগরিকরা। এ বক্তব্যের কারণে এলাকায় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে বলেও মনে করেন অনেকে।
একাত্তর/আরবিএস
