কাপ্তাই হ্রদ শুকিয়ে রাঙ্গামাটির সাথে ছয় উপজেলার লঞ্চ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

চলতি শুষ্ক মৌসুমে তীব্র তাপদাহে অস্বাভাবিকভাবে শুকিয়ে গেছে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানি। হ্রদের বুক চিড়ে জেগে উঠেছে অসংখ্য ডুবোচর। হ্রদের নাব্যতা কমে যাওয়ায় হ্রদের পানি শুকিয়ে যাওয়া কমে গেছে কাপ্তাই জল বিদ্যুতের উৎপাদনও।

হ্রদের নৌ চলাচলের পথ শুকিয়ে জেলার ছয় উপজেলায় লঞ্চে যাত্রী ও পণ্য পরিবহণ কষ্টকর হয়ে পড়েছে। হ্রদের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় সংকট দেখা দিয়েছে অসহনীয় দুর্ভোগ।

১৯৬০ সালে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে কাপ্তাইয়ের কর্ণফুলী নদীতে বাঁধ দিয়ে সৃষ্টি হয় সাতশ’ বর্গকিলোমিটার আয়তনের বিশ্বের দীর্ঘতম কৃত্রিম কাপ্তাই হ্রদ।

বর্তমান শুষ্ক মৌসুমে এবারো অস্বাভাবিকভাবে শুকিয়ে গেছে এ হ্রদের পানি। হ্রদের বুকে জেগে উঠেছে অসংখ্য ডুবোচর ও টিলা।

হ্রদের পানি শুকিয়ে উপজেলা সদরের জেটিঘাট দুরে সরে গেছে। বন্ধ হয়ে গেছে লঞ্চ চলাচল।

বাঘাইছড়ি, লংগদু, বরকল, জুরাছড়ি, নানিয়াচর, বিলাইছড়ির হাজারো মানুষকে ইঞ্জিন চালিত বোটে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ছোট বোট বা স্পীডবোটে যাত্রীরা চলাচল করলেও সেটি এখন বন্ধ হওয়ার পথে।

বর্তমানে ৬ উপজেলায় লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে। যাত্রী এবং মালামাল ছোট ইঞ্জিন বোটের মাধ্যমে পরিবহন করা হচ্ছে। তারপরও শুভলং এর পরে গিয়ে বোটগুলো আটকে যায়। ২ থেকে ৩ ঘণ্টার রাস্তা যেতে লাগে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা।

রাঙ্গামাটি লঞ্চ মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ জানান, হ্রদের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় ৬টি উপজেলার সাথে নৌ-যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।

রাঙ্গামাটি লঞ্চ মালিক সমিতি সভাপতি মঈন উদ্দিন সেলিম জানান, হ্রদের নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে সব পয়েন্ট ড্রেজিং করা প্রয়োজন। তাই হ্রদের সেখানে ড্রেজিং করার দাবি জানিয়েছেন রাঙ্গামাটি লঞ্চ মালিক সমিতি।

রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, দীর্ঘদিন যাবত ড্রেজিং না হওয়ায় কাপ্তাই হ্রদে প্রতিনিয়ত বর্জ্য পড়ে আর বর্ষায় পলি জমে তলদেশ ভরাট হওয়ায় হ্রদ নাব্যতা হারিয়ে ফেলেছে। নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে হ্রদের ছয়টি পয়েন্টে ড্রেজিং করার পরিকল্পনা আছে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।

আরও পড়ুন: সাভারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবন থেকে পড়ে শিক্ষার্থীর মৃত্যু

কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে জানা গেছে, হ্রদে পানির স্তর এখন অনেক নিচে নেমে গেছে। বর্তমানে লেকে পানি রয়েছে ৭২.১৬, কিন্তু হ্রদে পানি থাকার কথা ছিলো ৮৩.৮০ এমএসএল (মীন সী লেভেল) বা ফুট। বর্তমানে কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে রেশনিং পদ্ধতিতে ২ টি ইউনিট দিয়ে ৫৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে।

হ্রদে পানি হ্রাস অব্যাহত থাকলে রাঙ্গামাটির ৬ উপজেলার সরাসরি নৌ-যোগাযোগ বন্ধের পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনে সংকট বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


একাত্তর/আরএ