যশোর জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি বদিউজ্জামান ধনি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ও র্যাব।
বৃহস্পতিবার (১৪ জুলাই) দুপুরে পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ার্দ্দার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, বুধবার (১৩ জুলাই) রাতে যশোর শহরের টিবি ক্লিনিক পাড়া ও খুলনার দিঘলিয়া বারাকপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ মামলার প্রধান আসামি রায়হান ও এজাহারভুক্ত ৭ নম্বর আসামি ইছামীরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
এদিকে র্যাব-৬ যশোর ক্যাম্পের সদস্যরা আলাদা অভিযান চালিয়ে ধনি হত্যায় জড়িত আরেক সন্দেহভাজন আল আমিনকে আটক করে। পরে তাকে যশোর কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়।
গত ১২ জুলাই বেলা পৌনে ১২টার সময় যশোর শহরের শংকরপুর চোপদারপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে যুবদল নেতা বদিউজ্জামান ধনিকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
পরে নিহতের ভাই ও বিএনপি কর্মী মনিরুজ্জামান বাদী হয়ে যশোর কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় প্রধান আসামি করা নগর বিএনপির নেতা শামীম আহম্মেদ মানুয়াকে।
পুলিশ সুপার জানান, দলীয় অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নিহত যুবদল নেতা ধনির সাথে একই এলাকার সাত নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি পদপ্রার্থী শামীম আহমেদ মানুয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কোন্দল চলে আসছিল। তাছাড়া মানুয়ার জামাই ইয়াসিন গত ফেব্রুয়ারি মাসে খুন হন। ধনি ওই মামলার আসামি ছিল।
আরও পড়ুন: ডাচ বাংলার ১৯ লাখ টাকা ছিনতাই, চারজন গ্রেপ্তার
গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, এসব দ্বন্দ্বের জেরেই মানুয়ার নির্দেশে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। এ মামলার প্রধান আসামি রায়হান শামীম আহমেদ মানুয়ার ভাগ্নে।
পুলিশ জানায়, নিহত ধনির বিরুদ্ধে দুইটি হত্যা মামলা, একটি অস্ত্র মামলা, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও বিস্ফোরক আইনে আরও দুইটি মামলাসহ মোট ১২টি মামলা ছিল। আর গ্রেপ্তার রায়হানের বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও চাঁদাবাজির চারটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।