নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার দিঘলিয়া গ্রামের সাহাপাড়ায় সহিংসতার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার পাঁচজনকে তিনদিন করে রিমান্ড দিয়েছে আদালত।
এদিকে, হামলার শিকার বাড়িঘর মেরামত ও ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। কিন্তু আতঙ্ক আর পানি-বিদ্যুতের সংযোগ নষ্ট করে ফেলায় হামলার পরপরই এলাকা ছেড়ে যাওয়া অনেকেই এখনও বাড়িতে ফেরেনি।
দিঘলিয়া পূর্ব পাড়ায় আখড়াবাড়ির মন্দিরটিতে হামলার পরপরই এলাকা ছাড়ে সেখানকার একমাত্র হিন্দু পরিবারটি। এমন হামলা কখনোই দেখেননি স্থানীয়রা।
পাশের পাড়ায় আরেক মন্দিরে হামলার পরদিন শনিবার এক হিন্দু পরিবারের বাড়ি থেকে রাতে গরু নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।ফলে নিরাপত্তা নিয়ে আছে অনিশ্চয়তাও।
শুক্রবার রাতে সাহাপাড়ায় হামলা করে পুড়িয়ে দেয়া সেই ঘরটি সংস্কারের কাজ চলছে স্থানীয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধায়নে।
তবে পোড়া ঘর সারিয়ে তোলা গেলেও পোড়া বিশ্বাস সারিয়ে তুলতে অনেকটা সময় লাগছে। তবু যুগের পর যুগ ধরে নিজের ঠিকানা বলে যাকে জেনে এসেছে সেই মাটিতেই নিরাপদে ফিরতে চান এই মানুষগুলো।
এদিকে এ হামলায় জড়িত অভিযোগে গ্রেফতার পাঁচ জনকে সোমবার আদালতে হাজির করে ৭ দিন করে রিমান্ড চায় পুলিশ। আদালত মঞ্জুর করেন তিন দিনের রিমান্ড।
নড়াইল জজ কোর্টের অ্যাডভোকেট শিমুল ফকির জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা লোহাগড়া থানার এসআই মিজানুর রহমান তাদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। বিচারক শুনানি শেষে তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে, রোববার রাত ও সোমবার সকালে এই পাঁচ জনকে লোহাগড়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরা হলেন- সাইদ শেখ, রাসেল মৃধা, কবির গাজী, রেজাউল শেখ ও মাসুম বিল্লাহ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, তারা সবাই লোহাগড়ার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। ঘটনার আগে ও পরে বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদের শনাক্ত করা হয়েছে।
ঘটনার পর থেকে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রাখতে পুলিশ, র্যাব, সাদা পোশাকের পুলিশ ও গোয়েন্দারা সার্বক্ষণিক ওই এলাকায় অবস্থান করছেন।
একাত্তর/এআর