পটুয়াখালীতে বৃদ্ধের রহস্যজনক মৃত্যু, পরিবারের দাবি হত্যা

পটুয়াখালীতে মাকসুদুর রহমান তালুকদার নামে এক বৃদ্ধের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, পৌর মেয়রের ইন্ধনে তার লোকজন মাকসুদুর রহমান তালুকদারকে হত্যা করেছে। 

মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে পটুয়াখালী শহরের শ্মশান এলাকা থেকে মাকসুদুর রহমান তালুকদারের মরদেহ উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। 

এ ঘটনায় শুক্রবার (৯ সেপ্টেম্বর) মানববন্ধন ও মিছিল করেন মাকসুদুর রহমান তালুকদারের পরিবারের সদস্যরা।

মানববন্ধনে তারা তার মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেন ও ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। 

পরিবারের অভিযোগ, শহরের পিডিএসএ মাঠ সংলগ্ন সুতাখালী খালের অবৈধ দখল ও হাইকোর্টের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও নিজের জমি বুঝে না পাওয়া নিয়ে গত ৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় নদী কমিশনের চেয়ারম্যানের সামনে কথা বলেন মাকসুদুর রহমান তালুকদার। এর কয়েকঘন্টা পরই তার মরদেহ পাওয়া যায়। 

তাদের আরও অভিযোগ, এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ দিলে তা গ্রহণ করেনি পুলিশ। থানায় মামলা না নেয়ার ব্যাপারে পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মাকসুদ তালুকদারের বড় মেয়ে মাকসুদা আক্তার শিমু।

উল্লেখ্য, গত ৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরী পটুয়াখালী শহরের পিডিএসএস মাঠ ও শ্মশান এলাকার সুতাখালী খালের দখল হয়ে যাওয়া পরিস্থিতি দেখতে যান। এসময় সেখানে পৌর মেয়র মহিউদ্দিন আহমেদ, কাউন্সিলরবৃন্দ ও প্রশাসনের লোকজন উপস্থিত ছিলেন। 

এসময় স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলেন নদী কমিশনের চেয়ারম্যান। সেখানে উপস্থিত ছিলেন শহরের চরপাড়া নিবাসী মাকসুদুর রহমান তালুকদার। তিনি তার রেকর্ডীয় জমির স্থাপনা ভেঙ্গে এবং   খালের জমিতে রাস্তা নির্মাণ নিয়ে পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে অভিযোগ   করেন। 

এক পর্যায়ে মেয়র ও তার কাউন্সিলরসহ লোকজনের সাথে মাকসুদ তালুকদারের ভাতিজা নাসির তালুকদারের উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা হয়। পরে পুলিশ নাসির তালুকদারকে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়। 

এ ঘটনার কয়েকঘন্টা পর শ্মশানের মধ্যে মাকসুদ তালুকদারকে পড়ে   থাকতে দেখে উদ্ধার করে বাসায় ও পরে হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সেদিন রাত ৯টায় তাকে পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়।

পরিবারের অভিযোগ, ওই দিনই থানায় অভিযোগ দিতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণ করেনি। 

আরও পড়ুন: দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে তিনজন নিহত, আহত এক

পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, নিহত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের সময় তারা কোন অভিযোগ দেয়নি। দাফনের পর থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে এসেছিলো। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। 

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মেয়র মহিউদ্দিন আহমেদের মুঠোফোনে যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি।

পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আহমাদ মাইনুল হাসান বলেন, নিহতের স্বজনরা অনুমানের ভিত্তিতে একটি অভিযোগ নিয়ে এসেছিলেন সদর থানার ওসির কাছে। এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বলতে না পারায় তদন্তপূর্বক পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। 

একাত্তর/এসজে