নিখোঁজের তিন দিন পর গতকাল সোমবার নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র ফারদিন নূর পরশের (২৪) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পরশকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক।
মঙ্গলবার (৮ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ময়নাতদন্ত শেষে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক শেখ ফরহাদ এই তথ্য জানান।
চিকিৎসক শেখ ফরহাদ সাংবাদিকদের বলেন, ফারদিনের পুরো মাথার বিভিন্ন অংশে আঘাত পাওয়া গেছে। বুকের ভেতরে আঘাতের চিহ্ন আছে। প্রাথমিকভাবে আমরা বুঝতে পেরেছি, এটি অবশ্যই হত্যাকাণ্ড। ময়নাতদন্ত শেষে দ্রুত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।
ছেলের মৃত্যুতে ফারদিনের বাবা নূর উদ্দিন রানা গণমাধ্যমে বলেন, ফারদিনকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে এর বিচার চাই। বিচার না পেলে কোনো বাবা তার ছেলেকে বুয়েটে পড়তে পাঠাবে না।
রামপুরা থানা পুলিশ জানিয়েছে, এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
বুয়েট পূরকৌশল বিভাগীয় প্রধান দেলোয়ার হোসেন বলেন, ফারদিন নূর নিয়মিত ছাত্র ছিলো। সে নিখোঁজের পর তার পরিবার এবং বুয়েট থেকে পুলিশের সাথে কথা বলা হয়। তার মৃত্যুতে কোনো রহস্য থাকলে তা উদঘাটনের দাবি সবার।
আরও পড়ুন: ৭ নভেম্বর হত্যাকাণ্ডের বিচারে তদন্ত কমিটি হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বুয়েট সূত্রে জানা গেছে, ফারদিনের মরদেহ বুয়েটে নেওয়া হচ্ছে। সেখানে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। তারপর ডেমরা কোনাবাড়িতে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হবে। এরইমধ্যে বুয়েতে শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়েছেন।
ফারদিন নূর পরশ গত ৪ নভেম্বর থেকে নিখোঁজ ছিলেন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা কাজী নুরুদ্দিন ঢাকার রামপুরা থানায় একটি জিডি করেছিলেন। তিন দিন পর অর্থাৎ ৭ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
একাত্তর/আরবিএস