বিগত বছরগুলোতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের কাছে দুর্ভোগের নাম ছিল দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট। যা প্রতিটি ঈদে মহা দুর্ভোগে পরিণত হতো। ফেরি পেতে অপেক্ষা করতে হত ঘণ্টার পর ঘণ্টা।
তবে এ বছর দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। ঈদযাত্রায় ভোগান্তিমুক্ত পারাপারে কর্তৃপক্ষের নানামুখী পদক্ষেপের কারণে দুর্ভোগ হবে না বলে দাবি করেছে ঘাট কর্তৃপক্ষ।
বিআইডব্লিটিসি ও বিআইডব্লিটিএ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদযাত্রায় পারাপারে যাতে কোন সমস্যা না হয়, এ জন্য নৌরুটের ফেরি বহরে ২০টি ফেরি প্রস্তুত করা হয়েছে। এ ছাড়া যাত্রী পারাপারের জন্য ফেরির পাশাপাশি ২২টি লঞ্চ চলাচল রয়েছে।
বুধবার সকালে দৌলতদিয়া লঞ্চে ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া থেকে ছেড়ে আসা প্রতিটি লঞ্চে উপচে পড়া ভিড়। প্রিয় জনের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে দলে দলে পরিবার পরিজন নিয়ে আসছে মানুষ। কিন্তু রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ছেড়ে যাচ্ছে একে বারে যাত্রীশূন্য লঞ্চ। তবে ঘাট এলাকায় পর্যাপ্ত ফায়ার সার্ভিস কর্মী ও পুলিশ সদস্যদের কাজ করতে দেখা গেছে।
একই চিত্র ফেরি ঘাটেও। দৌলতদিয়া ঘাটের সচল থাকা ৩, ৪ ও ৭ নম্বর ঘাট দিয়ে পারাপার অব্যাহত থাকলেও ফেরিতে যাত্রী ও মোটরসাইকেলের চাপ অনেক বেশি। তবে ঘাট স্বল্পতায় ও উঁচু এ্যাপ্রোচ সড়কে গাড়ি উঠা নামায় সমস্যা হচ্ছে। পাশাপাশি অনেক সময় ঘাটের অভাবে ফেরি এসে দারিয়ে থাকছে। আনলোডিং করতে সময় লাগছে বেশি।
পাটুরিয়া ঘাট থেকে একাত্তরের প্রতিনিধি জানান, ভোর থেকে যানের চাপ বেড়েছে। যাত্রীবাহী বাসের পাশাপাশি মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের পরিমাণ বেড়েছে।
ঘাট কর্তৃপক্ষ জানায়, এরিমধ্যে দুটো ফেরি বাড়ানো হয়েছে। চাপ আরো বাড়লে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মোটরসাইকেল চালকরা জানান, তারা স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করতে পারছে। কিন্তু ঘাটে তুলনামূলক একটু বেশি সময় লাগছে তাদের।
এদিকে প্রতি বছর ঈদের সময় দৌলতদিয়া ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা-খুলনা মহা সড়কে কয়েক কিলোমিটার যানজট থাকলেও বুধবার সকাল পর্যন্ত জিরো পয়েন্ট থেকে সড়কে কোন যানজট বা সিরিয়াল তৈরি হয়নি। ঢাকামুখি গাড়িগুলো সরাসরি ফেরিতে উঠে যেতে পারছে।
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাটের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, ঈদুল ফিতরে ঘরমুখো মানুষকে নির্বিঘ্নে পারাপার করতে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ঈদের আগে ও পরে নৌরুটের ফেরি বহরে ছোটবড় মিলিয়ে ২০ ফেরি চলবে।
আরও পড়ুন: ছিনতাইয়ে ব্যর্থ হয়ে অটো চালককে জবাই করে হত্যা
রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার এম এম শাকিলুজ্জামান জানান, দৌলতদিয়া ঘাটে যাত্রী হয়রানি বন্ধ, যাত্রীদের নিরাপত্তায় ঘাট এলাকায় পর্যাপ্ত সংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। কেউ যাতে হুড়োহুড়ি করে ফেরিতে না উঠে ও মোটরসাইকেল ব্যবহারে আরো সচেতন হয় সেজন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সকলকে সাবধানতা অবলম্বনের আহবান জানানো হয়েছে।
একাত্তর/আরএ