লক্ষ্মীপুরে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাবেক দুই নেতাকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গুলিতে সাবেক যুবলীগ নেতা ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢাকায় নেওয়ার পথে মারা যান সাবেক ছাত্রলীগ নেতা।
মঙ্গলবার (২৬ এপ্রিল) রাত পৌনে ১০টার দিকে সদর উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়নের নাগেরহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- জেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল্যা আল নোমান ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিব ইমাম।
নিহতের স্বজনেরা জানান, বশিকপুর ইউনিয়নের নাগেরহাট এলাকায় সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে নোমান ও রাকিব ওপর হামলা চালায়। এ সময় গুলিতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন নোমান। গুলিবিদ্ধ রাকিবকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার আনোয়ার হোসেন জানান, নোমানকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তাদের দুই জনের মাথা ও মুখে গুলির আঘাত রয়েছে।
নিহত যুবলীগ নেতা নোমানের ভাই লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমানের দাবি, আবুল কাশেম জেহাদী পরিকল্পিতভাবে ভাইকে হত্যা করেছে। কাশেম তার সঙ্গে ইউপি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরেছিল। এরপর থেকে তিনি তাদের হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, বশিকপুরের সাবেক চেয়ারম্যান ও চন্দ্রগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবুল কাশেম জেহাদী গত ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেন।
অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মাহফুজুর রহমান। নির্বাচনে কাশেমের ভরাডুবি হয়। ওই নির্বাচন নিয়েই কাশেম ও তার বাহিনীর সঙ্গে মাহফুজ-নোমান পক্ষের দ্বন্দ্ব চলছিল। এর জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।
জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম সালাহ উদ্দিন টিপু বলেন, আমরা এ হত্যার প্রতিবাদ জানাই। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত খুঁজে বের করতে হবে।
চন্দ্রগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ তহিদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনা গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত থানায় মামলা হয়নি।
হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে রাতেই লক্ষ্মীপুর পৌর শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিল-পূর্ব এক সমাবেশে বক্তব্য দেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি হুমায়ন কবির পাটোয়ারী, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাইফুল হাসান পলাশ, লক্ষ্মীপুর পৌর মেয়র মোজাম্মেল হায়দার মাসুম ভূঁইয়া প্রমুখ।
বক্তারা এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়ে হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারসহ বিচার দাবি করেন।
একাত্তর/এসি