লক্ষ্মীপুরে যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতা খুনের ঘটনায় তিন গ্রেপ্তার

লক্ষ্মীপুরে যুবলীগ নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান ও ছাত্রলীগ নেতা রাকিব ইমাম হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. সোহেল রানা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। 

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. সোহেল রানা জানান, অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত আছে। তবে তদন্তের স্বার্থে আটকদের নাম-পরিচয় জানাননি তিনি।

এর আগে, বুধবার দিবাগত রাত একটার দিকে নিহত নোমানের বড় ভাই বশিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান বাদি হয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানায় ৩৩ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এতে আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কাশেম জিহাদীসহ ১৮ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার প্রধান আসামি কাশেম জিহাদী চন্দ্রগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও বশিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। তিনি নিজের নামে বাহিনী গঠন করে এলাকায় দুই যুগ ধরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ আছে। স্থানীয়ভাবে তিনি সন্ত্রাসী বাহিনী প্রধান হিসেবে পরিচিত। ঘটনার পর থেকেই আবুল কাশেম জিহাদীকে এলাকায় দেখা যায়নি এবং তার মোবাইল নম্বরে কল দিয়েও সংযোগ পাওয়া যাচ্ছে না। 

স্থানীয়দের দাবি, জিহাদী আত্মগোপনে আছেন। জিহাদীকে গ্রেপ্তার করে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

মঙ্গলবার রাতে সদর উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়নের নাগেরহাট সড়কে সন্ত্রাসীরা যুবলীগ নেতা নোমান ও ছাত্রলীগ নেতা রাকিবকে গুলি করে হত্যা করে। এসময় তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। স্থানীয়রা গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। মাথায় ও মুখে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন তারা।

এদিকে, নিহত নোমানের মা সালেহা বেগম বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের ফলে ঘটনা এখানেই শেষ নয়। নতুন করে তারা শঙ্কিত মামলার বাদি নোমানের বড় ভাই ও স্থানীয় চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমানসহ তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে।

মামলার বাদী নোমানের বড় ভাই ও বশিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান বলেন, গেল ইউপি নির্বাচনে হারার পর থেকে বিভিন্ন সময় কাশেম জিহাদী হুমকি দিয়ে আসছিল বাড়ি চারদিনের বেশি থাকলেই তার ভাইকে হত্যা করা হবে। পরিকল্পিতভাবেই তার ছোটভাই ও রাকিবকে হত্যা করেছে আবুল কাশেম জিহাদী। 

১৯৯৬ সালের পর থেকে বশিকপুরে যত হত্যাকাণ্ড ঘটেছে সবগুলো এই কাশেম জিহাদিই ঘটিয়েছেন দাবি করে তিনি প্রধানমন্ত্রীর নিকট তার ছোটভাইয়ের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

অপরদিকে রাকিবের বাবা রফিক উল্যা বলেন, নির্বাচনের পর থেকেই জিহাদী তার ছেলেকে হুমকি দিয়ে আসছে। গেল বছর ২০ ডিসেম্বর পোদ্দার বাজার কায়েকোবাদ অডিটোরিয়ামে জিহাদী তার ছেলেকে প্রকাশ্যে মারধর করেছে। তখন মামলা দিতে চাইলে পুলিশ নেয়নি। তার ছেলেকে জিহাদিই হত্যা করেছে। নির্বাচনে তার বিরোধিতা করায় তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ছাত্রলীগ নেতা সবুজ হত্যায় আরেক গ্রেপ্তার, আদালতে স্বীকারোক্তি

জেলা পুলিশ সুপার মো. মাহফুজ্জামান আশরাফ বলেন, বাদির করা এজাহার হত্যা মামলা হিসেবে রুজু হয়েছে। আসামিদের মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।


একাত্তর/জো