নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আরআইসিএল রোলিং কারখানায় লোহার ভাট্টি বিস্ফোরণে চার শ্রমিক নিহতের পর কারখানার গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। বিস্ফোরণের কারণ তদন্তে গঠন করা হয়েছে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি।
শুক্রবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল হকের নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসন ওই কারখানা পরিদর্শনে গিয়ে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে।
তদন্ত কমিটিতে আহবায়ক করা হয়েছে ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মুস্তাফিজুর রহমানকে, সদস্য সচিব করা হয়েছে কাঞ্চন ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন অফিসার মো. রফিকুল ইসলামকে এবং সদস্য করা হয়েছে নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ-২ এর প্রকৌশলী আলতাফ হোসেনকে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আলম বলেন, কারখানা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব অবহেলার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিস্ফোরণের পর তিন ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য কারখানা কর্তৃপক্ষ স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসকে অবহিত করেনি।
তিনি জানান, কারখানা কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে না পারায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আগ পর্যন্ত এবং সরকারি সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত গ্যাস এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকবে।
কারখানার কয়েকজন শ্রমিক জানান, তিন মাস আগে কারখানাটি চালু করা হয়। কারখানাটিতে বর্তমানে ২০-২৫ জন শ্রমিক কাজ করছে। তবে কারখানার ভেতরে কোনও প্রকার অগ্নিনির্বাপন সামগ্রী রাখা হয়নি। কাজ করার জন্য শ্রমিকদের দেওয়া হয়নি কোনও প্রকার সুরক্ষা সামগ্রী।
শ্রমিকরা জানান, তারা মালিকপক্ষকে অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা ও ঝুকিপূর্ণ কাজের সুরক্ষা সামগ্রী প্রদান করার কথা বলে আসলেও মালিকপক্ষ তাদের কথায় কর্নপাত করেনি।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএফএম সায়েদ বলেন, এখন পর্যন্ত নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ কোন ধরনের লিখিত অভিযোগ দেননি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের পক্ষ থেকে অভিযোগ না দিলে পুলিশ বাদী হয়ে এই ঘটনায় দোষীদের অভিযুক্ত করে মামলা করা হবে।
আরও পড়ুন: ডাকাতি করতে পাঠানো হয়েছিল ট্রলারের ১০ জনকে
বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটার দিকে গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের সাওঘাট এলাকায় রাহিমা ইন্ডাস্ট্রিয়াল কোম্পানি লিমিটেড (আরআইসিএল) রোলিং মিলে লোহা গলানোর ভাট্টি বিস্ফোরণ ঘটে।
এসময় ঘটনাস্থলেই মারা যান এক শ্রমিক। দগ্ধ আরো ছয়জনকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনসটিটিউটে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও তিন শ্রমিকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এখনও চিকিৎসাধীন তিনজনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
একাত্তর/এসজে