সরকারের পদত্যাগসহ এক দফা দাবিতে বিএনপির ডাকে টানা ৭২ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। অবরোধের সমর্থনে মঙ্গলবার সকালে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে সাইনবোর্ড এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও পিকেটিং করেছে বিএনপির নেতাকর্মীরা।
রুহুল কবির রিজভী ছাড়াও সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি, নারায়ণগঞ্জ জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি মন্টু মেম্বার, নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন সালুসহ স্থানীয় নেতারা।
এসময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে রিজভী বলেন, আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিকে বাধা দিতে সর্বাত্মক চেষ্টা করেছে আওয়ামী লীগ ও তার ফ্যাসিবাদী সরকারের অনুগত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সরকারের নির্যাতন ও অনিয়মের বিরুদ্ধে যারাই প্রতিবাদ করেছেন, সমালোচনা করেছেন, তাদের বিরুদ্ধেই অত্যাচার ও মামলার খড়্গ নেমে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, নজিরবিহীন অত্যাচার, নির্যাতন, ও খুনের শিকার হয়েও বিএনপিসহ গণতন্ত্রের পক্ষের দলগুলো সহিংসতার পথ বেছে নেয়নি। নেতাকর্মীরাও শান্তিপূর্ণ ও অহিংস আন্দোলনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগ দিয়েছেন।
এদিকে, বন্দরের মদনপুর দেওয়ানবাগ গেট এলাকায় দু'টি পিকআপ ভ্যান ভাঙচুর করে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে হঠাৎ একদল যুবক এসে মহাসড়কে চলাচলরত যানবাহনে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুর শুরু করে। এসময় দু'টি পিকআপ ভ্যানে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়।
অপরদিকে, আড়াইহাজার ও রূপগঞ্জে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহত হয় ২০ জন।
আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে সরকার পতনের এক দফা দাবিতে শনিবার সমাবেশ ডাকে বিএনপি। ওইদিন দুপুরের আগে নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ শুরুর পর কাকরাইল মোড়ে দলটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে তা ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের এলাকায়। রণক্ষেত্রে রূপ নেয় সংলগ্ন এলাকাগুলো। এর পরই তিন দিনের সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করে দলটি।
বিএনপি ছাড়া জামায়াতে ইসলামী, এলডিপি, গণতন্ত্র মঞ্চসহ আরও কিছু দলও অবরোধ পালনের ঘোষণা দিয়েছে।