লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেনে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ধর্ষণের ঘটনায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে লালমনিরহাট রেল বিভাগ। এছাড়াও অভিযুক্ত রেলের অ্যাটেনডেন্স আক্কাস গাজীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে লালমনিরহাট বিভাগীয় যন্ত্র প্রকৌশলী (ক্যারেজ এন্ড ওয়াগন) তাসরুজ্জামান বাবু এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তদন্ত কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
লালমনিরহাট ডিভিশনাল ট্রান্সপোর্টেশন অফিসার (ডিটিও) আব্দুল্লাহ আল মামুনকে আহবায়ক করে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির অপর তিন সদস্য হলেন, তাসরুজ্জামান বাবু, রেলওয়ে হাসপাতালের ডাক্তার মাহফুজুর রহমান ভূইয়া, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কমান্ডেন্ট (আরএমডি) শফিকুর রহমান। কন্ট্রোল অর্ডারের মাধ্যমে বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার আব্দুস সালাম এ নির্দেশনা দিয়েছেন।
বুধবার সকালে ধর্ষণের এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন লালমনিরহাট রেলওয়ে থানার (জিআরপি) ওসি ফেরদৌস আলী।
ফেরদৌস আলী একাত্তরকে জানান, মঙ্গলবার রাতে ধর্ষণের শিকার ওই কিশোরী (১৩) জয়দেবপুরে স্টেশনে আসে ময়মনসিংহে যাওয়ার জন্য। কিন্তু তার ট্রেনের দেরি হয়। পরে রাত সোয়া ১২টার দিকে না বুঝেই ভুল করে সে লালমনি এক্সপ্রেসে উঠে পড়ে। রাত আড়াইটার দিকে অ্যাটেনডেন্ট আক্কাস গাজী কিশোরীর কাছে টিকেট চেকিংয়ের জন্য যান। টিকেট না পেয়ে তাকে একটি আসনে বসিয়ে দেন অ্যাটেনডেন্ট।
মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, পরে সকাল ৮টার দিকে ওই কিশোরীকে আসন থেকে তুলে একটি কেবিনে নিয়ে যান অ্যাটেনডেন্ট। ট্রেনটি লালমনিরহাটের তিস্তা স্টেশনে পৌঁছায় সকাল সাড়ে ১০টায়। তখন ওই কেবিন থেকে কান্না ও চিৎকারের শব্দ শুনে পুলিশ সদস্যরা এগিয়ে যান। তখন কিশোরীকে উদ্ধার এবং অ্যাটেনডেন্টকে পুলিশ আটক করে।
গ্রেপ্তার আক্কাছ গাজী বরিশাল সদরের শায়েস্তাবাদ সড়কের বাসিন্দা এবং তিনি সেলুন বেয়ারা (ভারপ্রাপ্ত অ্যাটেনডেন্ট) হিসেবে লালমনি ক্যারেজ অ্যান্ড ওয়াগন ডিপোতে কর্মরত।
এ ঘটনায় এএসআই রুহুল আমিন বাদী হয়ে ৯ (১) ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে রেলওয়ে থানায় মামলা করেছেন।
ধর্ষণের শিকার কিশোরীর বাড়ি ময়মনসিংহের এক উপজেলায়। স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য এরই মধ্যে তাকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ওসি ফেরদৌস আলী বলেন, আক্কাস গাজীকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে লালমনিরহাট আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।