মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সঙ্গে দেশটির বিদ্রোহীদের সংঘর্ষ কিছুটা কমে এলেও নতুন করে বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় নিয়েছে জান্তা সরকারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপির ৬৩ সদস্য।
গত কয়েকদিনে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্য, পুলিশ, ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাসহ ২৬৪ জন বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। বুধবার হোয়াইক্যং সীমান্ত নতুন করে ৬৪ জনের আসায় এই সংখ্যা দাঁড়ালো ৩২৮ জনে।
গত কয়েকদিনে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ও তুমব্রু সীমান্তে ব্যাপক গোলাগুলির শব্দে দিশেহারা হয়ে যায় মানুষ। সীমান্তের ওপার থেকে মর্টার শেল এসে আছড়ে পড়তে থাকে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে।
মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও আরাকান আর্মির সংঘাতের এলাকা মঙ্গলবার আরো বিস্তৃত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে উখিয়ার থাইয়্যংখালী সীমান্ত পর্যন্ত।
তবে বুধবার সংঘর্ষ স্তিমিত হয়ে আসায় গোলাগুলির শব্দ কিছুটা কমেছে। এলাকাবাসী জানিয়েছেন, তুমব্রু ও ঘুমধুম সীমান্তের ওপারে বেশিরভাগ অংশ আরাকান আর্মি দখল করে নিয়েছে।
তারা বলছেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও আরাকান আর্মির সংঘর্ষ কিছুটা কমে আসায় মঙ্গলবার রাত থেকে এখন পর্যন্ত ভারী গোলাবর্ষণের শব্দ শোনা যায়নি। তবে কয়েক ঘণ্টা পরপর একটি-দুটি গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
গত অক্টোবর থেকে জাতিগত বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর আক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে মিয়ানমারের সামরিক টহল চৌকি, অস্ত্রাগার ও বেশ কিছু শহরের নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে বিদ্রোহীদের হাতে। সম্প্রতি এই সংঘাত আরো বেড়েছে।
সরকারি বাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহীদের রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের মধ্যে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সংখ্যাও বাড়ছেই।
মঙ্গলবার মিয়ানমারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইরাবতীর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাখাইন রাজ্যের ম্রাউক ইউ ও কিয়াউকতাও শহরে জান্তা বাহিনীর আরো দুটি সামরিক ঘাঁটি নিজেদের দখলে নিয়েছে আরাকান আর্মি (এএ)।
আর কাচিন রাজ্যের হপাকান্ত ও মানসি শহরে সামরিক বাহিনীর দুটি চৌকির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বিদ্রোহী গোষ্ঠী পিপলস ডিফেন্স ফোর্সেস (পিডিএফ) ও কাচিন ইনডিপেনডেন্স আর্মি (কেআইএ)।
এদিকে গোলাগুলি গোলাগুলি কমে আসায় কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন বাংলাদেশের সীমান্ত অঞ্চলের বাসিন্দার। আতঙ্কের মধ্যেও এদিন সকাল থেকে সাধারণ মানুষদের রাস্তাঘাটে চলাচল করতে দেখা গেছে, যা গত কয়েকদিন ছিলো ফাঁকা।
বেশিরভাগ দোকানপাটও খুলেছে। নাইক্ষ্যংছড়ির বেতবুনিয়া বাজার থেকে জলপাইতলী-তুমব্রু সড়কে ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচলও আগের চেয়ে বেড়েছে।
সীমান্তে অশান্ত পরিস্থিতির মধ্যে দায়িত্ব নেওয়ার দুই দিনের মাথায় বুধবার সংঘর্ষ প্রবণ সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী।
তিনি কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) আওতাধীন বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু ও ঘুমধুম সীমান্ত এবং এর আশেপাশের বিওপি পরিদর্শন করেন।
এসময় সীমান্তে দায়িত্বরত বিজিবি সদস্যদের খোঁজ খবর নেন এবং তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করের মেজর জেনারেল আশরাফুজ্জামান।
তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবাইকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সীমান্তে উদ্ভূত যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সদা তৎপর থাকার নির্দেশ দেন।
প্রাণ বাঁচাতে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া জান্তা সরকারের বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) সদস্য, সেনাবাহিনীর সদস্য, পুলিশসহ অন্যান্য সংস্থার সদস্যদের খোঁজ খবর নেন বিজিবির প্রধান। তাদেরকে দেখতে তিনি হাসপাতালে যান।