মিয়ানমারের রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে বিদ্রোহীদের সঙ্গে লড়াইয়ে ধোপে টিকতে না পেরে জান্তা সরকারের সেনা ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপি সদস্যদের বাংলাদেশে পালানোর হিড়িক পড়েছে।
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত দিয়ে তিন দিনে বাংলাদেশে আসা ৭৪ জন সেনা ও বিজিপি জওয়ান বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বিজিবির হেফাজতে রয়েছে।
মঙ্গলবার তিন ধাপে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে ঢুকে পড়ে ৫৮ সেনা ও বিজিপি সদস্য। এরমধ্যে শুধু রাতেই এসেছে ৪৬ জন।
তারা নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সদর ইউনিয়নের আষাঢ়তলী-জামছড়ি ও ঘুমধুম ইউনিয়নের রেজু সীমান্তপথ দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। পরে তাদের সাথে থাকা অস্ত্র জমা নিয়ে বিজিবি হেফাজতে নেয়া হয়।
বিজিবি কর্মকর্তারা বলছেন, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা ২৬০ জনকে বর্তমানে নাইক্ষ্যংছড়ি সদরে ১১ বিজিবির হেফাজতে রাখা হয়েছে।
গত কয়েকমাস ধরে জাতিগত বিভিন্ন সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীদের সঙ্গে লড়াই চলছে মিয়ানমারের সরকারি বাহিনীগুলোর। যুদ্ধে বিদ্রোহীদের কাছে একে পর এক ভূমির দখল হারাচ্ছে দেশটির সরকার।
স্পেশাল অ্যাডভাইসরি কাউন্সিল ফর মিয়ানমার-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশটির জান্তা সরকারের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে দেশটির মাত্র ১৭ শতাংশ ভূখণ্ডের ওপর, ২৩ শতাংশ ভূখণ্ড নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে এবং বিদ্রোহী গোষ্ঠীদের দখলে চলে গেছে ৫২ শতাংশ ভূখণ্ড।
বিদ্রোহীদের আক্রমণে টিকতে না পেরে সেনা, বিজিপি সদস্যসহ অনেকেই বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন।
এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রচণ্ড সংঘর্ষের মধ্যে কয়েক দফায় বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় নেয় জান্তা সরকারের সেনা, বিজিবি ও অভিবাসন কর্মকর্তাসহ ৩৩০ জন। তাদের ১৫ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়।
