মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সঙ্গে দেশটির বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী।
বুধবার বিজিবির কক্সবাজার রিজিয়নের আওতাধীন বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি।
আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী বলেন, এটি মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাত, যার প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশেও।
‘তবে আমরা আর কোনো মৃত্যু চাই না। সর্বোচ্চ ধৈর্য ধরে সীমান্ত নিরাপদ রাখবে বিজিবি,’ বলেন বাহিনীটির মহাপরিচালক।
সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বিজিবির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মেনে ধৈর্য ধারণ করে, মানবিক ও আন্তর্জাতিক সুসম্পর্ক বজায় রেখে পরিস্থিতি মোকাবিলার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি।
‘পরিস্থিতি যাই হোক না কেনো, অবৈধভাবে আর একজনকেও বাংলাদেশে ঢুকতে দেওয়া হবে না,’ বলেও জানান বিজিবি প্রধান। বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সীমান্তে উদ্ভূত যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে বিজিবি প্রস্তুত রয়েছে।
গত অক্টোবরে জাতিগত বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর আক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে মিয়ানমারের সামরিক টহল চৌকি, অস্ত্রাগার ও বেশ কিছু শহরের নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে বিদ্রোহীদের হাতে। সম্প্রতি এই সংঘাত আরো বেড়েছে।
সরকারি বাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহীদের রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের মধ্যে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সংখ্যাও বাড়ছেই। সবশেষ ঘুমধুম সীমান্তে বিদ্রোহীদের আক্রমণের মুখে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষীরা দলে দলে আশ্রয় নিচ্ছে বাংলাদেশে। এখন পর্যন্ত ২৬৪ জন আশ্রয় নিয়েছে।

এছাড়া ওপারের সংঘর্ষের জেরে প্রায়ই সীমান্ত পেরিয়ে মর্টার শেল উড়ে এসে পড়ছে বাংলাদেশের সীমান্তে। এতে দুইজন নিহত হয়েছে। সংঘর্ষ প্রবণ বান্দরবানের সীমান্ত এলাকার কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নেওয়ার দুই দিনের মাথায় সংঘর্ষ প্রবণ সীমান্ত এলাকা পরিদর্শনে গেলে বিজিবির মহাপরিচালক। তিনি কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) আওতাধীন বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু ও ঘুমধুম সীমান্ত এবং এর আশেপাশের বিওপি পরিদর্শন করেন।
এসময় সীমান্তে দায়িত্বরত বিজিবি সদস্যদের খোঁজ খবর নেন এবং তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করের মেজর জেনারেল আশরাফুজ্জামান।
তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবাইকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সীমান্তে উদ্ভূত যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সদা তৎপর থাকার নির্দেশ দেন।
প্রাণ বাঁচাতে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া জান্তা সরকারের বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) সদস্য, সেনাবাহিনীর সদস্য, পুলিশসহ অন্যান্য সংস্থার সদস্যদের খোঁজ খবর নেন বিজিবির প্রধান। তাদেরকে দেখতে তিনি হাসপাতালে যান।
রোহিঙ্গাদের আর ঢুকতে দেওয়া হবে না: বিজিবি ডিজি