সাত ফ্লাইওভার চালুর পরও গাজীপুরে যানজটের শঙ্কা

রাজধানী থেকে গাজীপুর পর্যন্ত বিআরটি প্রকল্পের সাতটি ফ্লাইওভার খুলে দেয়া হলেও ঈদযাত্রায় ভোগান্তির শঙ্কা দূর হয়নি। গাজীপুরের চান্দনা, গাজীপুরা, বোর্ড বাজারসহ কয়েকটি পয়েন্টে যানজটের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, সড়কে যত্রতত্র বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানোয় দেখা দেয় যানজট। এছাড়াও কয়েকটি স্থানে বিআরটি'র স্টেশন করায় সড়ক সরু হয়ে গেছে, ফলে এসব স্থানেও হতে পারে যানজট।

রাজধানীর বিমানবন্দর থেকে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত খুলে দেওয়া হয়েছে সাতটি ফ্লাইওভার। এই পথে এখন ঢাকা থেকে অনেকটাই স্বচ্ছন্দে চলাচল করতে পারছেন টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, শেরপুর, জামালপুর, নেত্রকোণার মানুষ।

তবে ঈদযাত্রায় চান্দনাসহ কয়েকটি পয়েন্টে ভোগান্তির আশঙ্কা করছেন যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা। কারণ হিসাবে তারা বলছেন, ফ্লাইওভারগুলোর ঢাকামুখী পথ এখনো বন্ধ। এছাড়া ফ্লাইওভার থেকে নেমেই ব্যস্ত রাস্তায় পড়বে গাড়ি। এছাড়া পথচারী পারাপার, যেখানে-সেখানে বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামায় দেখা দেবে যানজট।

চালকদের গাফিলতি, মানহীন যানবাহন, স্বল্প গতির তিন চাকার গাড়িসহ নানা কারণে মহাসড়কে যানজটের কথা স্বীকার করে পুলিশ। তবে এবার ঈদযাত্রায় যানজটের দুর্ভোগ কমাতে নানা ব্যবস্থা নিচ্ছে পুলিশ প্রশাসন।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (ট্রাফিক) আলমগীর হোসেন বলেন, ওয়াচ টাওয়ার, মোবাইল টিমের পাশাপাশি যেকোনো যায়গায় যদি অবৈধ পার্কিং হয় সেগুলোকে সরাতে রেকার কাজ করবে। সার্বক্ষণিকভাবে এ কাজগুলো চলবে, যাতে রাস্তায় কোনো গাড়ি অযাচিতভাবে দাঁড়িয়ে না যায় এবং রাস্তায় যেন কোনো ধরনের ব্লকেজ তৈরি না হয়। 

পুলিশের পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সাথে সমন্বয় করে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের নির্বিঘ্ন চলাচলের ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান জেলা প্রশাসক।

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক আবুল ফাতে মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ট্রান্সপোর্টেশন যাতে সঠিকভাবে হয়, ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট যাতে সঠিকভাবে হয়, সে বিষয়ে আমাদের পরিপূর্ণ পরিকল্পনা রয়েছে। মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং জেলা পুলিশ সমন্বয়ে ট্রাফিক সিস্টেম যাতে ভালো থাকে। এছাড়া আমরা রোডস এন্ড হাইওয়েরও সহযোগিতা নিচ্ছি।       

দেশের সবচেয়ে বড় শিল্পাঞ্চল গাজীপুরে কলকারখানাগুলো এক সাথে ছুটি দিলে এই এলাকার সড়কে প্রচণ্ড চাপ পড়ে। তাই কলকারখানায় ধাপে ধাপে ছুটি দিয়ে যানজট কমানোর পরামর্শ দেন সংশ্লিষ্টরা।