রিমাল তাণ্ডবে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির মুখে উপকূলীয় অঞ্চল

ঘূর্ণিঝড় রিমালের দীর্ঘ সময়ের তাণ্ডবে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির মুখে পড়েছে দেশের উপকূলীয় অঞ্চল। দুই দফা জোয়ারে প্লাবিত হয়েছে উপকূলের বেশিরভাগ এলাকা। লবণ পানিতে ছেয়ে গেছে ফসলি জমি। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে মাছের খামারগুলো। উপকূলবাসী বলছেন, ত্রাণের চেয়েও তাদের জন্য জরুরি টেকসই বেড়িবাঁধ। 

গেলো দুই দশকে উপকূলের মানুষ সিডর ও আইলা মতো দুটো বড় ঝড়ের তাণ্ডব দেখেছে। শক্তিতে বড় হলেও অল্পসময় তাণ্ডব চালিয়েছিলো এই দুই সুপার সাইক্লোন। কিন্তু শক্তিতে মাঝারি মানের হলেও ঘূর্ণিঝড় রিমাল উপকূল জুড়ে তাণ্ডব চালিয়েছে প্রায় ২৪ ঘণ্টা। 

আঘাত হানার সময় দুবার সাগরের জোয়ার শক্তি যুগিয়েছে ঘূর্ণিঝড়টিকে।দীর্ঘ সময় জুড়ে বৃষ্টি, প্রবল বাতাস আর জোয়ারের পানি তছনছ করে দিয়েছে উপকূলীয় এলাকা।

দীর্ঘ সময় ভারী বৃষ্টিতে মাটি নরম হয়েছে, সাথে ছিলো প্রবল বাতাস। এই কারণে বেশিরভাগ গাছ উপড়ে পড়েছে এবং গাছচাপা পরে মারা গেছে মানুষ। ভেঙেছে বসতবাড়ি। 

মাটি নরম হওয়ায় পানির তোড়ে ভেঙেছে বেড়িবাঁধ। লবনপানি প্রবেশ করায় উপকূলে এখন খাবার পানির তীব্র সংকট।সেইসাথে ক্ষতিতে পড়েছে ফসলি জমি।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে মৎস্য খাতের। উপকূলের পানির তোড়ে ভেসে গেছে হাজার হাজার পুকুর আর ঘেরের মাছ। উপকূলবাসী বলছেন, প্রাণহানি কম হলেও আর্থিক ও প্রাকৃতিকভাবে বড় ক্ষতি করে গেছে ঘূর্ণিঝড় রিমাল। 

উপকূলীয় এলাকায় বিপর্যয় মোকাবেলায় টেকসই ব্যবস্থা গড়ে তোলা না গেলে বাড়বে জলবায়ু উদ্বাস্তুর সংখ্যা।