বৃষ্টির কারণে নারায়ণগঞ্জের ডিএনডি বাঁধের ভেতরে তৈরি হয়েছে জলাবদ্ধতা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে সেখানকার বাসিন্দারা। আর বছরের পর বছর আশ্বাসের বাণী শুনলেও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন এলাকার চেয়ারম্যান। তবে স্থানীয় সংসদ সদস্য জানান, সমস্যা সমাধানের জন্য এলজিআরডির সহায়তা প্রয়োজন।
ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে দু'দিনের বৃষ্টিতে নারায়ণগঞ্জের ডিএনডি বাঁধের ভেতরে তৈরি হয়েছে জলাবদ্ধতা। কোথাও হাঁটু পানি, কোথাও বুক পানি। সড়কেও চলে নৌকা। ফতুল্লার লালপুর, পৌষাপুকর পাড়, নন্দলাপুরসহ আশেপাশের এলাকার অবস্থা সবচেয়ে খারাপ।
শুধু বৃষ্টির পানি নয়, এর সাথে মিশেছে কলকারখানার বিষাক্ত কেমিকেলযুক্ত ময়লা পানি। দূষিত আর দুর্গন্ধযুক্ত এই পানিতে চলাফেরা করতে গিয়ে পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে। প্রতিবছর বর্ষায় এমন জলাবদ্ধতা হলেও এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাচ্ছে না এলাকাবাসী।

ডিএনডি বাঁধ কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করেও কোন সমাধান পাচ্ছেন না স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি। তাই প্রভাবশালীদের এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন তিনি।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত আলী বলেন, এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে আমরা আর্থিক, মানসিক সব চেষ্টা করছি। আমরাও জনগণের পক্ষ থেকে এই এই জলাবদ্ধতা, এই দুর্ভোগ থেকে পরিত্রাণ চাই।

এই জলাবদ্ধতার জন্য এলাকার মানুষকেও কিছুটা দায়ী করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য। বলেন, নিচু এলাকায় উঁচু রাস্তার কারণে পানি সরতে পারছে না। অবশ্য জলাবদ্ধ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে এলজিডিই'তে প্রকল্প জমা দেয়ার কথাও জানান তিনি।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান বলেন, মসজিদের আজান দেয়ার জায়গা পর্যন্ত নেই, মন্দিরে জায়গা নেই। নর্দমার ময়লা পানি এবং বাথরুমের ময়লা পানি মসজিদ-মন্দিরে ঢুকছে। এই জন্য আমি দুঃখিত এবং লজ্জিত। সেনাবাহিনী এবং এলজিডি বিভাগ এসে দেখেছে। আমাকে বলা হয়েছে স্পেশাল প্রজেক্ট করে ঢাকায় অলরেডি পাঠানো হয়েছে।
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা বাঁধের ভেতরে বসবাসকারীরা এক যুগ ধরে ভুগছেন এই জলাবদ্ধতা সমস্যায়। এই কারণে এখানকার নিচু এলাকা ছেড়ে গেছেন অনেক ভাড়াটিয়া।
পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে বন্যার কবলে সিলেট