গোটা দেশজুড়েই এখন কোরবানির পশু বিক্রি ধুম। জেলায় জেলায় সরগরম হয়ে উঠছে কোরবানি পশুর হাট। পিছিয়ে নেই শরীয়তপুরও। তবে, সেখানকার পশুর হাটে আলোচনার তুঙ্গে চারটি বিশালাকার গরু। আর হবেই না কেন, তাদের নাম আর ওজন যেমন, দামেও তেমন। নবাব, টাইগার, কালো মানিক আর বাহাদুর- চার বাহারি নামের চারটি গরুই শরীয়তপুরের পশুর হাট মাতাতে প্রস্তুত।
কেন এই চারটি গরু নিয়ে এতো হইচই? সেটি জানতে হলে, পরিচিত হতেই হবে তাদের সঙ্গে। শরীয়তপুর নড়িয়া উপজেলার ডিঙ্গামানিক ইউনিয়ন এই চার গরুর ঠিকানা। সেখানকার ডিঙ্গামানিক গ্রামেই রয়েছে সরদার এ্যাগ্রো ফার্ম, আর সেখানকার ৫২টি গরুর মধ্যে রয়েছে ফ্রিজিয়ান জাতের চারটি বিশালদেহী গরু। রয়েছে। চারটিরেই স্বভাব চরত্রি চার রকম। সুসম আর সুঠাম দেহের অধিকারী।
এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ষাড়টির নাম দেয়া হয়েছে নবাব। নামের সাথে তার মিলও রয়েছে। চলাফেরা, খাওয়া দাওয়া একেবারেই নবাবের মতো। ৩৮ মণ ওজনের নবাবের দাম চাওয়া হচ্ছে ২০ লাখ টাকা। এছাড়া রয়েছে শরীয়তপুরের টাইগার যার ওজন ৩২ মণ, দাম ১৬ লাখ টাকা। ২৮ মণ ওজনের কালো মানিকের দাম চাওয়া হচ্ছে ১৪ লাখ টাকা। বাহাদুরের ওজন ৩০ মণ যার দাম চাওয়া হয়েছে সাত লাখ টাকা।
কোরবানি ঈদের জন্য এই চারটি গরু প্রস্তুতে অনেক সময় ও ব্যয় করতে হয়েছে খামারিকে। নামের মতোই তাদের খাদ্য তালিকা। প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ২৫ কেজি দানাদার খাবার খায় গরুগুলো। খাবারের মধ্যে রয়েছে কাঁচা ঘাস, শুকনো খর, গমের ভুষি, ধানের কুড়া, ছোলা আর মিষ্টিকুমড়া। সেই হিসেবে গরুগুলোর পেছনে প্রতিদিন গড়ে ১২ থেকে ১৩ টাকা খরচ হয়।
ডিঙ্গামানিক ইউনিয়নের এই চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল আজিজ সরদার জানান, গত বছর তিনি গরুগুলো ঢাকার হাটে উঠিয়ে ছিলেন, এ বছর তিনি গরুগুলো হাটে উঠিয়ে চাইছেন খামার থেকে ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করে দিতে। তার ইচ্ছে, আগ্রহী ক্রেতারা তার খামারে এসে দেখ-শুনে কিনে যাক এই চারটি গরুকে।
ক্রেতা আসুক বা নাই আসুক, তবে নবাব-টাইগার-কলো মানিক আর বাহাদুরকে দেখতে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে ও স্থানীয়রা ভিড় করছেন সরদার এ্যাগ্রো ফার্মে। অনেকে আবার আসছেন গরু কেনার জন্যও। তারা জানান, এই এলাকায় এর আগে এতো বড় গরু দেখেননি তারা।
শরীয়তপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবু বক্কর জানিয়েছেন, জেলায় কোরবানিযোগ্য পশু আছে এক লাখ ৭ হাজার ১২ টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। যা চাহিদার চাইতে অনেক বেশি। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে এসব পশুগুলো লালন-পালন করা হয়েছে হয়েছে বলে আশ্বস্ত করেছেন তিনি।