দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। এই ঈদে মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ’র সন্তুষ্টি লাভের আশায় মুসলিমরা পশু কোরবানি দিয়ে থাকে। সেই লক্ষ্যে দেশে জমতে শুরু করেছে কোরবানির পশুর হাটগুলো। পুরোদমে বেচাকেনা শুরু না হলেও প্রতিবারের মতো এবার গরুর বাহারি সব নাম নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে।
হাটে বিক্রির জন্য আসা অসংখ্য গরুর মধ্যে কয়েক জাতের গরুর চাহিদা থাকে সবচেয়ে বেশি। শাহীওয়াল, হোলস্টাইন ফ্রিজিয়ান, ব্রাহমা আর মীরকাদিম জাতের গরু সব সময়েই চাহিদার শীর্ষ থাকে। এসব গরুর দামও তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। সেই সঙ্গে এসব গরুর রয়েছে বাহারি সব নাম।
গরুর নানা রকম নামই এখন নাস্তার টেবিল থেকে শুরু করে চায়ের আড্ডায় তুমুল চর্চার বিষয়। সামাজিক মাধ্যমে চোখ বুলালেই চোখে পড়বে গরুর নাম নিয়ে নানা ধরনের পোস্ট। চলছে আলোচনা-সমালোচনা থেকে শুরু করে হাসি-ঠাট্টা আর ব্যঙ্গ বিদ্রুপ। কেউ বা পক্ষে, কেউ বা বিপক্ষে।
একসময় গরুর নাম রাখা হতো শরীরের বর্ণ দেখে। রং সাদা হলে ধলা বা ধলু, কালো হলে কালু, লাল হলে লালু নাম রাখা হতো। কেউ গরুর মেজাজ অনুযায়ী নাম রাখতেন রাজা, বাদশা বা সম্রাট। তবে বর্তমানে গরুর নাম রাখা হয় পরীমনি, জায়েদ খান, ডিপজল, মিশা, শাকিব খান, প্রিন্স মামুন বা তাহেরী।

এবারের কোরবানির বাজারে যেসব নাম বেশি শোনা যাচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে, নবাব, বাহাদুর, রাজা-বাদশাহ, সম্রাট, রাজাবাবু, কালো মানিক, টাইগার, ভাগ্যরাজ, পাঠান, আদুরী, সুন্দরী, শান্তম, মহেশ, কালা তুফান থেকে শুরু টানেল- এমনকি বিগ বস নামও শুনা যাচ্ছে।
এসব নাম নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে এখন তোলপাড়। বিশেষ করে তারকাদের না কিংবা মানুষের নামে নাম রাখা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। আবার যেসব তারকাদের নামে গরুর নাম রাখা হয়েছে, তাদের কেউ কেউ বলছেন এসব তাদের জনপ্রিয়তারই প্রতিফলন, তারা এসবে কিছু মনে করছেন না।
এই যেমন অভিনেতা জায়েদ খান বলেছেন, কোরবানির হাটে প্রিয় জিনিসটাকে বিক্রি করছে আমার নাম দিয়ে, করুক। একজন শিল্পীর ক্ষেত্রে এটা হয়, ব্যাপার না। এর আগে আরও সেলিব্রেটিদের নামের ক্ষেত্রেও এমন হয়েছে দেখেছি। আমার এতে তো কোনো সমস্যা নেই।

বিষয়টাকে কীভাবে দেখছেন জায়েদ এমন প্রশ্নে নায়ক বলেন, আমার নাম ব্যবহার করে, আমার কাঁধের ওপর ভর করে কেউ যদি ভালো কিছু করতে চায় এটাকে আমি নেগেটিভভাবে দেখি না। কারণ সেভাবে দেখলে আমি কাজে মনোযোগ দিতে পারব না। পশুর হাট নিয়েই আমায় পড়ে থাকতে হবে।
কোরবানির হাটে ‘পরীমনি’ নামের মহিষও বিক্রি হয়েছে। খামারি ইমরান বলেন, এটা একদমই জাতীয় মহিষ। মহিষগুলোর মধ্যে এটা সবচেয়ে সুন্দর। আর, এটা যিনি কিনেছেন তিনিই নাম দিয়েছেন পরীমনি। কারণ তার প্রিয় নায়িকা পরীমনি। ইমরান জানান, কোরবানির মার্কেটে এমন মহিষের ভালো চাহিদা রয়েছে।
আবার চট্টগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা দৃষ্টিনন্দন টানেলের নামে এবার কোরবানির পশুর নামকরণও করা হয়েছে। চট্টগ্রামের খামারি আনছারুল হক সুমন শখ করে তার ১৫ মণ ওজনের একটি গরুর নাম রেখেছেন ‘টানেল’। এমব বাহারি উদাহরণের কোনো অভাব নেই এবার।
লক্ষ্মীপুরে একটি খামারের সবচেয়ে বড় গরুর নাম ‘বিগ বস’। ভদ্র স্বভাবের এ গরুটির অপর নাম শিক্ষিত গরু। সাথে আছে আদুরী, সুন্দরী, ছোট বসসহ বিভিন্ন নামের গরু। ছোট বস একটু রাগী। আর আদুরী তার দাঁত দেখিয়ে সবাইকে মুগ্ধ করে। সুন্দরীও সবার কথা শোনে।
এখানে বলে রাখা ভালো যে, ইসলামের দৃষ্টিতে কোরবানি করা ওয়াজিব। প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানকে কোরবানি করতে হয়। তাই ধর্মীয় কাজে ব্যবহৃত পশুর নাম এমন না রাখাই ভালো। রাখলেও মানুষের নামে না রেখে, রঙের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাখা উচিত। যাতে ধর্মীয় ভাব-গাম্ভীর্য নষ্ট না হয়।
কোরবানির সুস্থ পশু চেনার উপায়, অসুস্থ গরু থেকে সাবধান 