দুর্বৃত্তদের গুলিতে আওয়ামী লীগ নেতাসহ দুইজন নিহতের ঘটনায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি। পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। দুই খুনে জড়িতদের আটকসহ সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়েছে নিহতের স্বজনরা।
শিবগঞ্জ উপজেলার রানিহাটি কলেজের সামনে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে দুর্বৃত্তদের হামলায় জেলা পরিষদের সদস্য ও শিবগঞ্জ উপজেলার নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুস সালামসহ (৫৫) দু’জন নিহত হয়েছেন। নিহত অন্যজন হলেন একই উপজেলার হরিনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। হামলার আগে একটি চায়ের স্টলে বসে চা খাচ্ছিলেন তারা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের নয়ালাভাঙ্গায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা সালাম ও আশরাফ গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিলো। আবদুস সালামের সমর্থকরা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে রানিহাটি গুচ্ছু গ্রামের মাঠে সালাম ও তার সহযোগী হরি নগর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুল মতিন নেতা দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় অতর্কিতে তাদের ওপর হামলা করে তাদের প্রতিপক্ষ।
এই হামলায় আহত আওয়ামী লীগ কর্মী রহিম বাদশা জানান, হঠাৎ করে দুর্বৃত্তরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। পাশাপাশি গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই নিহত হন সালাম। গুলিবিদ্ধ হন মতিন। হামলাকারীদের গুলি এবং বোমার আঘাতে ঘাটনা স্থলেই মারা যান সালাম। হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান মতিন। এই হামলায় অংশ নেয়া সবাই সাবেক চেয়ারম্যান আশরাফ আলীর লোকজন।
২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মিম ইফতেখার জাহান বলেন, রাত নয়টার দিকে মতিনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। লাশের মাথা ও পায়ে গুলির চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ হোসেন জানিয়েছেন যে, নয়ালাভাঙ্গা এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের দীর্ঘ দিনের বিরোধ রয়েছে। এক পক্ষের নেতৃত্ব দিতেন সালাম। এই বিরোধের জেরে তাঁদের হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
নিহতের স্বজনরা জানান, কয়েক মাস আগেও সালামের গাড়িতে হামলা হয়েছিলো। খুনের ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি রয়েছে। তাদের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্ষোভ করে সালামের সমর্থকরা। তারা দ্রুত এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেছেন।
ঘটনার প্রতিবাদে নিহতের সমর্থকরা চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ মহাসড়কের রানীহাটি কলেজের সামনের রাস্তায় আগুন ও ব্যারিকেড দিয়ে অবরোধ করে। পরে, পুলিশ গিয়ে অবরোধকারীদের সরিয়ে দেয়। এখন রাস্তার যানচলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।