গোমতী নদীর ভাঙনে কুমিল্লাতে নতুন করে ১৪টি উপজেলার ১২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে বন্যাকবলিত এলাকায় পরিধেয় কাপড়, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। লক্ষ্মীপুরেও জেলার পাঁচ উপজেলা এখনো প্লাবিত। নতুন করে অনেকেই আসছেন আশ্রয় কেন্দ্রে।
নোয়াখালী সদরে সাব স্টেশন পানিতে ডুবে থাকায় বন্ধ রাখা হয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ। তবে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় মৌলভীবাজারে বাড়ি ফিরছেন। এদিকে, এখনও ত্রাণ সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন প্রত্যন্ত এলাকার বন্যাদুর্গত মানুষেরা।
আবার দুর্গম এলাকায় ত্রাণ না গেলেও চুরির ভয়ে ঘর ছাড়ছেন না পানিবন্দিরা। দুর্গম এলাকার বেশিরভাগ মানুষ হতদরিদ্র। তাদের অভিযোগ, সাত-আট দিন ধরে তারা পানিবন্দি থাকলেও অনেক প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছায়নি ত্রাণসামগ্রী। এজন্য ত্রাণ বিতরণে প্রশাসনের সমন্বয় প্রয়োজন বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
এমনিতেই প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বন্যার পানিতে নাজেহাল কুমিল্লার বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মানুষ। এরমধ্যে গোমতীর বাঁধ ভেঙে নতুন করে প্লাবিত হয়েছে আরো ১২টি উপজেলার বহুগ্রাম। পানিবন্দি মানুষগুলো বাড়িতে থাকতে না পেরে উঠেছেন আশ্রয়কেন্দ্রে।
বুড়িচং উপজেলার ভরাসার, ইছাপুরা, মহিষমারা ও বাকশিমুল এলাকায় পানি কিছুটা কমেছে। তবে অন্যান্য এলাকায় পানি স্থিতিশীল রয়েছে। আগামী দিন দুয়েকে পানি নেমে যাবে। বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়ার পর পাশের উপজেলা দেবিদ্বারের বিভিন্ন এলাকা নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে।
বন্যার পানি যেতে সময় লাগায় বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও ওষুধের সংকট। দেখা দিয়েছে পানিবাহিত রোগ। একটু সাহায্যের আশায় সড়কের পাশে ভিড় করছেন শিশু বৃদ্ধসহ সব বয়সের মানুষ। শহর এলাকার বন্যাদুর্গতরা সহায়তা পেলেও, বেশি দুর্ভোগে দুর্গম এলাকায় মানুষ।
বুড়িচং উপজেলার ভরসার এলাকার ব্যবসায়ী ফয়সাল হোসেন রাব্বি জানান, পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে। তবে সেটা উল্লেখযোগ্য নয়। জমির ফসলে ও বাড়িতে যেভাবে পানি আটকে আছে তাতে সরতে কমপক্ষে এক সপ্তাহ সময় লাগবে।
এদিকে, নোয়াখালীতেও এখনও বন্যা কবলিত এলাকা থেকে পানি সরেনি। তলিয়ে আছে পথ-ঘাট, ঘরবাড়ি, এরমধ্যেই আবারো বৃষ্টিতে বেড়েছে নদীর পানি। সাথে বেড়েছে আতঙ্ক। সেখানেও ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, প্রান্তিক এলাকায় যাচ্ছে না ত্রাণ।
পল্লী বিদ্যুতের সাব স্টেশনে পানিতে নিমজ্জিত থাকায়, বিদ্যুৎ পাচ্ছে না লাখ লাখ গ্রাহক । লক্ষ্মীপুরেও এখনো তলিয়ে রয়েছে গ্রামের পর গ্রাম।ত্রাণ ঠিকমতো না আসায় মানুষগুলোও আছেন খাবার, ওষুধ, স্যালাইন ও শুদ্ধ পানির সংকটে।
রাঙ্গামাটিতেও বন্যার পানি কমে আসলেও আশ্রয় কেন্দ্রে থাকা লোকজন এখনও বাড়ি ফিরতে পারেননি। এসব এলাকাতেও মানুষ রয়েছে খাবার ও পানির সঙ্কটে। তবে, বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় বাড়ি ফিরে আসছেন মৌলভীবাজারের বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষেরা। এদিকে সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও ব্যক্তি উদ্যোগে দেওয়া হচ্ছে ত্রাণ।