টানা বৃষ্টি ও মেঘনা নদীতে অস্বাভাবিক জোয়ারের কারণে লক্ষ্মীপুরের উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় ২০টি গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। এদিকে নদী উত্তাল হওয়ায় মেঘনা নদীর লক্ষ্মীপুর-ভোলা-বরিশাল রুটে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ মে) বিকেল থেকে শুরু হওয়া এই জোয়ারে কমলনগর ও রামগতি উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও বাসিন্দারা জানিয়েছেন, পূর্ণিমার প্রভাবে মেঘনায় অস্বাভাবিক জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এতে কমলনগরের কালকিনি, সাহেবেরহাট, পাটওয়ারীরহাট, চরফলকন, চরমার্টিন, চরলরেঞ্চ ইউনিয়ন এবং রামগতির আলেকজান্ডার, বড়খেরী, চরগাজী ও চরআবদুল্লাহ ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়।
জোয়ারের পানিতে এসব এলাকার রাস্তাঘাট, বসতবাড়ি, ফসলি জমি এবং নিচু ঘরের ভিটে ডুবে যায়।
ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, হঠাৎ করে পানি বাড়ায় অনেকের পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। হাঁস-মুরগি ও গবাদি পশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন তারা। রান্নার কাজ করতেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে অনেক পরিবারকে।
নদীর তীর রক্ষা বাঁধের নির্মাণ কাজ চলমান থাকলেও তা এখনও শেষ হয়নি। অনেক স্থানেই বন্ধ রয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ। শহরে কোনো কোনো জায়গায় বিদ্যুৎ সংযোগ থাকলো বিচ্ছিন্ন রয়েছে প্রায় পুরো শহরের বিদ্যুৎ সংযোগ।
স্থানীয়রা বলছেন, বেড়িবাঁধ অসম্পূর্ণ থাকার কারণেই বারবার এ ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তারা দ্রুত টেকসই ও পূর্ণাঙ্গ বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক রাজীব কুমার সরকার বলেন, রামগতি ও কমলনগর উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পর্যাপ্ত পরিমাণ শুকানো খাবার মজুদ রয়েছে। পাশাপাশি ২৮৫টি আশ্রয়ণ কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া ৬৪টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। অপরদিকে টানা বৃষ্টি ও অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে উপকূলীয় এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হলেও মেঘনায় ভাটায় পানি নেমে যায়। তবে বন্যার আশঙ্কা এখনো করা হচ্ছে না। তারপরও প্রশাসনের সকল প্রস্তুতি নেয়া আছে।