নেত্রকোনার দুর্গাপুরে মাদকাসক্ত ছেলের হাত থেকে স্ত্রীকে রক্ষা করতে বাবার মুগুরের আঘাতে আব্দুল্লাহ হক নামের (২৮) ছেলের মৃত্যু হয়েছে। এসময় বৃদ্ধ মায়ের হাত ভেঙ্গে যায়। এদিকে ছেলের মুত্যু হলে ঘরের মেঝেতেই মাটি খুড়ে লাশ পুতে রেখে দেন পিতামাতা।
ঘটনাটি ঘটেছে নেত্রকোনার সীমান্ত উপজেলা দুর্গপুরের কাকৈরগড়া ইউনিয়নের তিতারজান গ্রামে।
খবর পেয়ে রোববার (২৯ আগস্ট) দুপুরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে পিতা আলী আমজাদ (৬০) ও মা রাবেয়া খাতুনকে (৫৫) আটক করে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, আব্দুল হক (২৮) মাদক সেবনের জন্য প্রায়ই পিতার কাছে টাকা পয়সা চাইতো। টাকা পয়সা না দিলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, মারধরসহ মানসিক অত্যাচার নির্যাতনসহ ঘরের আসবাবপত্র ভাংচুর করতো। ছেলের অত্যাচার সইতে না পেরে বিগত ৮ বছর ধরে ঢাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করে আসছিল মা-বাবা। কিন্তু সেখানে গিয়েও ছেলে নির্যাতন সইতে হয় তাদের।
আরও পড়ুন: রাস্তা নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
একাধিক বিয়ে করা সত্ত্বেও স্বামীর নির্যাতন সইতে না পেরে আব্দুল হককে ছেড়ে চলে গেছেন তার স্ত্রীরাও। পুরো বাড়িতে একাই বসবাস করত আব্দুল হক। আট দিন আগে গ্রামের বাড়িতে আসেন মা রাবেয়া খাতুন আর সকালে বাড়ি আসেন বাবা আলী আমজাদ।
রাতে মাদকের টাকার জন্য বাবা-মার কাছে টাকা চাইলে দিতে অস্বীকার করলে ক্ষিপ্ত হয়ে ঘরের আসবাবপত্র ভাংচুর করে এবং মাকে মারধর করে।
এক পর্যায়ে বৃদ্ধ পিতা উত্তেজিত হয়ে ঘরে রক্ষিত মুগুর (কাঠের তৈরী শক্ত হাতল) দিয়ে মাথায় আঘাত করলে পুত্র ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে জেদ করে ঘরের মেঝেতেই লাশ পুতে রাখলে দুপুরে দুর্গাপুর থানার পুলিশ খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে। এসময় বাবা-মাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
নিহত আব্দুল হকের মামা নূরুল সিদ্দিক জানান, "দীর্ঘদিন ধরেই আব্দুল হক মাদকসেবী। তার জ্বালা সইতে না পেরে আমার বোন বোনজামাই ঢাকায় বসবাস করে কিন্তু সেখানে গিয়েও আমার বোনকে মারধর করে। টাকা দিতে না চাইলে আসবাবপত্রসহ বাড়ির সকল কিছুই ভেঙে ফেলে। কয়েকবার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তির থানায় অভিযোগ করেছিল বোন ও বোনজামাই। কয়েকদিন জেলহাজতে থেকেও তার কোন পরিবর্তন হয়নি উল্টো জেল থেকে বের হয়ে আরও অত্যাচার শুরু করে।"
আরও পড়ুন: অপমান সইতে না পেরে রিকশাচালকের আত্মহত্যা
এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মীর নূর মোহাম্মদ জানান, "আমি সকালে নেত্রকোনা যাওয়ার পথে স্থানীয়রা জানায় একটি বাড়িতে গতরাতে ঝামেলা। পরে স্থানীয় গ্রামবাসীদের নিয়ে আমি ওই বাড়িতে গিয়ে তাদের সাথে কথা বলি। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তারা এই বলেন যে তার ছেলেকে মেরে মাটিতে পুঁতে রেখেছেন। বিষয়টি আমি তাৎক্ষণিক পুলিশকে জানালে তারা এসে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এদিকে ছেলেটি অনেক দিন ধরেইমাদকাসক্ত ছিলো। স্থানীয়রা বলছিলো প্রায়ই নাকি মা-বাবাকে মারধোর করতো ওই ছেলে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দুর্গাপুর থানার ওসি শাহ নুর এ আলম জানান, আমরা ঘটনা শোনার পরপরই তাৎক্ষণিক বসতঘরের মাটির নিচ থেকে মরদেহ উদ্ধার করি। এ ঘটনায় আমরা মা-বাবা দু'জনকে আটক করেছি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হবে এবং এ ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
একাত্তর/এসজে