নাটোরে কার্যাদেশের চুক্তি ভঙ্গ করে নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের ‘রাইট অব ওয়ে’ থেকে মাটি উত্তোলন করে সরকারী সড়কের মারাত্বক ক্ষতি সাধন ও সরকারী অর্থ আত্বসাতের দায়ে নাটোরের দুই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারী করেছেন নাটোরের অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।
একই সাথে ঠিকাদারদের কার্যকলাপের সাথে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তাদের কোন সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা তা তদন্ত করার জন্য এবং জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহন করে আদালতকে অবহিত করার জন্য সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার (২৯ আগস্ট) নাটোরের অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এএফএম গোলজার রহমান এই আদেশ দেন।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানাপ্রাপ্ত আসামি ঠিকাদার মীর হাবিবুল আলম ফার্মের ব্যবস্থপনা পরিচালক মীর হাবিবুল আলম ওরফে বখতিয়ার। অপর আসামি রানা বিল্ডার্স প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ আলম।
আরও পড়ুন: লালমনিরহাট সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত দুই বাংলাদেশি
আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার নথি পর্যালোচনা করে আদালতের কাছে প্রতীয়মান হয় যে, ঠিকাদার মীর হাবিবুল আলম এবং মোঃ আলম কার্যাদেশের চুক্তি ভঙ্গ করে সড়কের ‘রাইট অব ওয়ে’ থেকে মাটি উত্তোলন করায় দীর্ঘ মেয়াদে সরকারী সড়কের মারাত্বক ক্ষতি সাধন করেছেন। আসামী মীর হাবিবুল আলম এবং মোঃ আলম সরকারী অর্থ আত্বসাৎ করার নিমিত্তে সরকারের সাথে বিশ্বাস ভঙ্গ ও প্রতারনা করেছেন।
ঠিকাদারদের অপরাধের সাথে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তাদের কোন সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা তা তদন্ত করার জন্য এবং জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহন করে আদালতকে অবহিত করার জন্য সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
নাটোর-বগুড়া মহাসড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এবং রংপুর সড়ক জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোঃ মনিরুজ্জামান, পাবনা সড়ক সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সমীরণ রায়, নাটোরের সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহি প্রকৌশলী আব্দুর রহিম, নাটোর সড়ক বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ আমানউল্লাহ আমানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা জড়িত আছেন কিনা তা তদন্ত করতে এবং জড়িত থাকলে দোষীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহন করে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আদালতকে জাননোর নির্দেশ দেয়া হয়।
এ বিষয়ে নাটোরের পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা বলেন, গ্রেপ্তারি পরেয়ানা হাতে পেয়েছি। আদালতের নির্দেশ মোতাবেক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
এর আগে চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে সড়কের রাইট ওয়ে থেকে গর্ত করে মাটি সম্প্রসারণ কাজ করেছেন ঠিকাদার এ বিষয়ে গত জুন মাসে একাত্তর টেলিভিশনে সংবাদ প্রচার হলে স্ব-প্রনোদিত হয়ে নাটোরের আদালতের মামলা গ্রহণ করে নাটোরের পিবিআই পুলিশ সুপারকে তদন্তের নির্দেশ দেন নাটোরে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আবু সাঈদ।
আরও পড়ুন: রাজশাহী মেডিক্যালে করোনা ও উপসর্গে ১৪ জনের মৃত্যু
পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেসন (পিবিআই) ‘এর পুলিশ সুপারকে গত ৩০ জুনের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে তদন্ত কর্মকর্তা আদালত থেকে আরো ৭ দিন সময় নিয়ে তদন্ত করে গত ৭ জুলাই আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে নাটোরে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মীর হাবিবুল আলম ফার্মের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর হাবিবুল আলম ওরফে বখতিয়ার এবং ঢাকার রানা বিল্ডার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ আলমকে অভিযুক্ত করে ৭৪ পাতার তদন্ত প্রতিবেদন দেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভস্টিগেসন (পিবিআই) নাটোরের ইন্সপেক্টর মোঃ সোহেব হোসেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে সড়কের দুই পাশ থেকে মাটি কেটে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ১ কোটি ৫২ লক্ষ ৭৮ হাজার ৯২৩ টাকা ক্ষতি করেছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে সড়ক ও জনপথ বিভাগের অবহেলা বা কোন কর্মকর্তাকে দায় করেননি তদন্ত কর্মকর্তারা।
পিবিআই তদন্ত করে নাটোরের ঠিকাদার মীর হাবিবুল আলম এবং অপর ঠিকাদার ঢাকার মোঃ আলমকে অভিযুক্ত করে আদালতে তদন্ত প্রতিদেবন জমা দেন।
