ফুটবল মহোৎসবে মেতেছে নোয়াখালী, পতাকা-জার্সি-ব্যানারের হিড়িক

বিশ্ব ফুটবলের মহোৎসব কড়া নাড়ছে দরজায়। আর মাত্র কয়েকদিন পর চার বছরের প্রতীক্ষিত ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের বল গড়াবে মাঠে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দেশ নিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই গ্রেটেস্ট শো অন আর্থকে কেন্দ্র করে নোয়াখালীতে শুরু হয়ে গেছে উন্মাদনা। প্রিয় দলকে সমর্থন জানাতে শিশু থেকে শুরু করে নানা বয়সী ফুটবলপ্রেমী দর্শক-ভক্ত-সমর্থকরা ইতিমধ্যেই পতাকা ওড়ানো ও জার্সি কেনার ধুম শুরু করেছেন।

নোয়াখালী ফুটপাতের দোকান থেকে শুরু করে অভিজাত বিপণিবিতানগুলোতে এখন ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। প্রিয় দলের পতাকার পাশাপাশি দেদারসে বিক্রি হচ্ছে তারকা খেলোয়াড়দের নম্বর ও ছবিসংবলিত জার্সি, ডিজিটাল প্রিন্টিং পিভিসি ব্যানার-ফেস্টুন তৈরির কাজও চলছে পুরোদমে নোয়াখালীজুড়ে।

জেলার প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্র চৌমুহনীসহ প্রতিটি উপজেলার হাটবাজারে এমনকি বড় বড় শপিং মলেও স্পোর্টস সামগ্রীর দোকানগুলোতে নানা দলের জার্সি বেচাকেনা হচ্ছে জমজমাটভাবে। প্রিয় দলের জার্সি গায়ে দিয়ে খেলা দেখার বাড়তি আনন্দে দূর-দূরান্ত থেকে এসে জার্সি ক্রয় করছেন সমর্থকরা। খুদে সমর্থক থেকে শুরু করে নানা বয়সীরা রঙিন জার্সি কিনছেন।

আবার অনেক অভিভাবক সন্তানের বায়না মেটাতেও বাড়ি ফেরার সময় জার্সি কিনতে ভুল করছেন না। তবে এবার জার্সির দাম কিছুটা বেশি হলেও চার বছর পর বিশ্বকাপ ফুটবল হওয়ায় প্রিয় দলের জার্সির দাম বেশি হলেও তা মেনে নিচ্ছেন ক্রেতারা।

এদিকে অনেকে জার্সি কিনে তাতে তারকা খেলোয়াড়দের নম্বর ও ছবিসংবলিত ডিজাইন করাতেও ছুটে যাচ্ছেন দোকানে। তবে এবার নোয়াখালীতে আর্জেন্টিনার সমর্থক বেশি দেখা যাচ্ছে। আর্জেন্টিনা সমর্থকরা বলছেন, নোয়াখালী বিভাগ যেমন তারা চান, তেমনি এবার শিরোপাও আর্জেন্টিনার হাতেই উঠবে।

জার্সি বিক্রেতারাও বলছেন, সারা বছরের তুলনায় বিশ্বকাপের কাউন্টডাউন শুরু হওয়ার পর থেকে এবং খেলা শুরুর দিনক্ষণ যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই বেচাকেনা বেড়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন দলের জার্সি বিক্রি হলেও মূলত আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের জার্সির চাহিদাই বেশি।

তবে এবারের উন্মাদনা শুধু পতাকা আর জার্সিতেই সীমাবদ্ধ নেই; নোয়াখালীর ডিজিটাল ব্যানার ও প্রিন্টিংয়ের দোকানগুলোতে চলছে অন্যরকম এক প্রতিযোগিতা। নিজ নিজ পছন্দের দলের ছবি, ব্যানার ও ফেস্টুন বানানোর হিড়িক পড়েছে পুরো নোয়াখালীজুড়ে। বাণিজ্যকেন্দ্র চৌমুহনীসহ বিভিন্ন এলাকার ডিজিটাল প্রিন্টিংয়ের দোকানগুলোতে তুমুল ব্যস্ততা দেখা যাচ্ছে। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সমর্থকরা বড় বড় ব্যানার-ফেস্টুন তৈরির জন্য সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভিড় করছেন এসব দোকানে।

ডিজিটাল সাইন ও প্রিন্টিং ব্যবসায়ীরা জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে বিশ্বকাপ ঘিরে কাজের চাপ অনেক বেড়েছে। বেশিরভাগ ব্যানারই ২০ থেকে ২৫ ফুট লম্বা হচ্ছে। কে কত বড় ব্যানার তৈরি করবেন—তা নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে রীতিমতো প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। অনেক সমর্থক নিজেদের মেসেঞ্জার বা ফেসবুক গ্রুপে টাকা তুলে আর্জেন্টিনা সমর্থক আজাদ মেম্বারের নামে ৪০ ফুট পর্যন্ত লম্বা ব্যানার অর্ডার করছেন। একটি ব্যানারে প্রিয় তারকার ছবির পাশাপাশি স্থানীয় সমর্থকদেরও ৮-১০ জনের ছবি জুড়ে দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন শত শত তরুণ কম্পিউটারের পাশে বসে নিজেদের পছন্দমতো ডিজাইন করে ব্যানার বানাচ্ছেন। কাজের চাপ এতটাই বেশি যে, ব্যবসায়ীদের সারাদিনের পাশাপাশি রাত জেগেও প্রিন্টিংয়ের কাজ করতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এই উন্মাদনা যেন শুধু খেলাতেই সীমাবদ্ধ থাকে এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশের মধ্য দিয়েই শেষ হয় ফুটবল বিশ্বের এই শ্রেষ্ঠ আসর।

সব মিলিয়ে, মাঠে বল গড়ানোর আগেই নোয়াখালীতে শুরু হয়ে গেছে মাঠের বাইরের আসল ফুটবল উন্মাদনা।