ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই বিশ্বজুড়ে কোটি ভক্তের অন্যরকম উন্মাদনা। প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশে কেউ বানান বিশাল পতাকা, কেউ রাঙিয়ে তোলেন নিজের বাড়ি, আবার কেউ সাজান গাড়ি। তবে সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা ভালোবাসার প্রকাশে বেছে নিয়েছেন এক ব্যতিক্রমী উপায়—রাঙিয়ে তুলেছেন একটি বিশাল বটগাছ।
দূর থেকে দেখলে মনে হবে, প্রকৃতি যেন আর্জেন্টিনার চিরচেনা আকাশি-সাদা পতাকার সাজে সেজেছে। গাছের কাণ্ড থেকে শুরু করে ডালপালা—সবখানেই আকাশি ও সাদা রঙের ছোঁয়া। যেন আকাশ ছুঁয়ে দাঁড়িয়ে থাকা বিশাল এক আর্জেন্টিনার পতাকাই সমর্থকদের স্বাগত জানাচ্ছে।

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী আজগড়া-জামতৈল খেয়াঘাটের পূর্বপাশে যমুনার চরে দাঁড়িয়ে থাকা আড়াই যুগেরও বেশি পুরোনো এই বটগাছটি এতদিন পথচলতি মানুষের ছায়া দিত। এখন এটি পরিচিতি পেয়েছে ‘আর্জেন্টিনা বটগাছ’ নামে।
স্থানীয়দের চাঁদায় প্রায় ১০ হাজার টাকার রঙ কিনে যুবক, বৃদ্ধসহ বিভিন্ন বয়সী ১৯ জন প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে গাছটি রাঙিয়েছেন। কেউ দিয়েছেন পাঁচ টাকা, কেউ ১০ টাকা, আবার কেউ ১০০ টাকা। এভাবেই সবার ছোট ছোট অবদানে ফুটে উঠেছে প্রিয় দলের প্রতি নিখাদ ভালোবাসা।
তবে এই উন্মাদনার শুরু এবার নয়। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপেও প্রথমবার গাছটিকে এভাবে সাজানো হয়েছিল। এবার ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ উপলক্ষে নতুন করে গাছটি রাঙানো হয়েছে আর্জেন্টিনার পতাকার আদলে। কোনো ব্যক্তিবিশেষ নয়, বরং এলাকার প্রবীণ থেকে শুরু করে তরুণ—সবাই অংশ নিয়েছেন এই আয়োজনে।
গাছটির ওপরে উড়ছে বাংলাদেশ ও আর্জেন্টিনার পতাকা। নিচে চায়ের দোকানে বড় পর্দায় খেলা উপভোগ করছেন সমর্থকেরা। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার ম্যাচ থাকলে চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এখানে জড়ো হন। তখন পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। থাকে রান্না করা খাবারের আয়োজন, সাউন্ড সিস্টেম ও আলোকসজ্জা। এসব আয়োজনের জন্যও স্থানীয়রাই চাঁদা তোলেন।
এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগের খবর ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও। এখন প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে ফুটবলপ্রেমী ও দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন গাছটি দেখতে। কেউ সেলফি তুলছেন, কেউ আবার পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসছেন।
উদ্যোক্তা ও আর্জেন্টিনা সমর্থক কাওসার আহমেদ বলেন, দ্বিতীয়বারের মতো এই বটগাছটি নীল-সাদা রঙে রাঙানো হয়েছে। প্রিয় দল আর্জেন্টিনার প্রতি ভালোবাসা এবং ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির বিদায়ী বিশ্বকাপকে স্মরণীয় করে রাখতেই তাদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। তিনি আরও বলেন, ফুটবলের উন্মাদনা এখন যমুনার চরেও ছড়িয়ে পড়েছে। সারা দিনের কাজ শেষে বিকেল কিংবা সন্ধ্যায় এখানে বসে সবাই আলোচনা করেন, ২০২৬ বিশ্বকাপের ট্রফি শেষ পর্যন্ত কোন দল জিতবে।
অনেক দূরের দেশ আর্জেন্টিনা হয়তো কোনো দিন জানবেও না বেলকুচির এই বটগাছটির কথা। তবে ফুটবল যে ভৌগোলিক সীমানা পেরিয়ে মানুষকে এক সুতোয় বেঁধে রাখতে পারে, সিরাজগঞ্জের এই আকাশি-সাদা বটগাছটি যেন তারই এক অনন্য প্রতীক।
সমর্থক আর ভক্তদের জন্য খেলবে আর্জেন্টিনা: স্কালোনি
স্প্যানিশ কোচের মাথায় ঘুণপোকার নাম ‘মেসি’!