কলাপাড়ায় স্কুলে একে একে অসুস্থ অর্ধশতাধিক ছাত্রী, হাসপাতালে ভর্তি ২৯

পটুয়াখালীর কলাপাড়ার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে হিস্টেরিয়া বা মানসিক রোগজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে প্রায় অর্ধশতাধিক ছাত্রী, শিক্ষক ও কর্মচারী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টা থেকে এমইউ বিদ্যালয়ের দশম থেকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া ছাত্রীরা অসুস্থ হতে শুরু করে।

অসুস্থদের মধ্যে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত ২৯ জনকে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া অন্যদের পাশের আমতলী হাসপাতাল ও বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

খবর পেয়ে পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা হাসপাতালে গিয়ে অসুস্থদের দ্রুত চিকিৎসা ও ওষুধ সরবরাহের উদ্যোগ নেন।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বলেন, আক্রান্তরা হিস্টেরিয়া বা মানসিক রোগজনিত সমস্যায় আক্রান্ত। তাদের গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এর আগে বুধবার দুপুরে টিফিনের সময় প্রথমে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর শরীরে খিঁচুনি ও শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। এ সময় ওই শ্রেণির অন্য ছাত্রীরাও অসুস্থ হতে শুরু করে। সবারই শরীরে খিঁচুনি দিয়ে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। একে একে নবম, অষ্টম, সপ্তম ও ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীদের মধ্যেও একই লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করে।

এ সময় বিদ্যালয়জুড়ে এক ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে শিক্ষক, এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা অসুস্থ ছাত্রীদের উদ্ধার করে বিভিন্ন যানবাহনে করে কলাপাড়া হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে এনে চিকিৎসার উদ্যোগ নেন।

আহত ছাত্রীরা বলেন, তাদের হঠাৎ করে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। এরপর শরীরে খিঁচুনি ওঠে। তারা হাত-পা নাড়াতে পারছিলেন না।

প্রত্যক্ষদর্শী বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা বলেন, তারা কিছু বুঝে উঠতে পারছিলেন না। একে একে তাদের পাশে বসা ছাত্রীরা অসুস্থ হয়ে ফ্লোরে পড়ে যায়। তাদের অবস্থা দেখে অন্যরাও আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক, এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা বলেন, ৫০-৬০ জন অসুস্থ হয়ে পড়ে। তারা অটোরিকশা, টমটম ও সিএনজিতে করে তাদের হাসপাতালে নিয়ে আসেন। অনেক ছাত্রী বাসায় গিয়েও অসুস্থ হয়ে পড়ে।

এদিকে অর্ধশতাধিক ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ার খবর পেয়ে সরকারি অনুষ্ঠান রেখে অসুস্থদের হাসপাতালে দেখতে যান পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন, উপজেলা বিএনপি সভাপতি হাজী হুমায়ুন সিকদার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান। তারা অসুস্থদের জন্য বেড, ওষুধ ও সার্বক্ষণিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেন, তারা দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করায় অসুস্থ ছাত্রীরা এখন সুস্থ হতে শুরু করেছে। চিকিৎসকরা যাতে সার্বক্ষণিক তাদের চিকিৎসা ও সেবা করে, এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আর কলাপাড়া হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মানিক মিয়া বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে অসুস্থরা হিস্টেরিয়া বা মানসিক রোগজনিত সমস্যায় আক্রান্ত। ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সঠিক কারণ জানা যাবে।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা বলেন, ভর্তি ২৯ জনের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হবে। এখনও অনেক অসুস্থ ছাত্রী হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসছে বলে চিকিৎসকরা জানান।