ভরা মৌসুমেও বাজারে নেই কাঙ্ক্ষিত ইলিশ। বঙ্গোপসাগরে ৬৫ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শেষ হলেও জেলেদের জালে প্রত্যাশা অনুযায়ী ইলিশ বা অন্য কোনো সামুদ্রিক মাছ মিলছে না। এতে বাজারে মাছের সরবরাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে, আর হু হু করে বাড়ছে দাম। কেবল সামুদ্রিক মাছই নয়, নদী-নালা ও খালে-বিলে আগের মতো পাওয়া যাচ্ছে না দেশীয় প্রজাতির মাছও।
পিরোজপুরের স্থানীয় মৎস্য বাজারগুলোতে এখন ক্রেতাদের চোখেমুখে হতাশা। মাছের বাজার অস্থির হয়ে ওঠায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের সাধারণ মানুষ।
দেশীয় মাছের এই সঙ্কটের নেপথ্যে নিষিদ্ধ ‘চায়না দুয়ারি’ জালকে দায়ি করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ, নদী-নালা ও অন্য জলাশয়ে অবাধে ক্ষতিকর এই জালের ব্যাপক ব্যবহারের ফলে ছোট পোনা থেকে শুরু করে ডিমওয়ালা মাছ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। ফলে প্রজনন ও প্রাকৃতিক বিস্তার মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় দিন দিন কমে যাচ্ছে মুক্ত জলাশয়ের মাছের উৎপাদন।
অন্যদিকে, সাগরে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাণিজ্যিক ট্রলিং ফিশিং জাহাজ চলাচলের কারণে মাছের রেণু ও পোনা নষ্ট হচ্ছে বলে ধারণা মাছ ব্যবসায়ীদের। এ কারণে সমুদ্র উপকূলের কাছাকাছি জালের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত মাছের দেখা মিলছে না।
সামুদ্রিক ও দেশীয় উন্মুক্ত জলাশয়ের মাছের সঙ্কটে বাজারে একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছে চাষের মাছ। তবে সম্প্রতি পোল্ট্রি ও মাছের খামারে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় চাষের মাছের দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
পিরোজপুর জেলা সদরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মাছের দর সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা। বাজারে ছোট আকৃতির ইলিশ বা জাটকা বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১,২০০ টাকায়। আর মাঝারি থেকে বড়ো আকারের ইলিশ প্রতি কেজি ১,৬০০ থেকে ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত ঠেকেছে।
এছাড়া অন্য সামুদ্রিক মাছ গড়ে প্রতি কেজি ৪৫০ থেকে ১,২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে রূপচাঁদা বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১,০০০ থেকে ১,২০০ টাকায়।
চাষের মাছ প্রকারভেদে প্রতি কেজি ২০০ থেকে ৭০০ টাকা, রুই ২৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, পাঙাশ ২২০ থেকে ২৫০ টাকা এবং মরম মাছ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাছের চড়া দামের প্রভাবে পোল্ট্রি ও মুরগির বাজারেও দাম চড়া। বর্তমানে ব্রয়লার প্রতি কেজি ১৮০-১৯০ টাকা, কক ৩৮০-৪০০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৩০-৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, দ্রুত ক্ষতিকর চায়না দুয়ারি জাল ও সাগরে অবৈধ ট্রলিং বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে দেশীয় মৎস্য সম্পদ চরম হুমকির মুখে পড়বে।