গেল ২৪ ঘন্টায় মিয়ানমারের ওপারে ভারী কোনো অস্ত্রের শব্দ শোনেননি ঘুমধুম, উখিয়া ও টেকনাফের সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা। তবে সীমান্ত কিছুটা শান্ত হওয়ার সাথে সাথে এপারের ক্ষত চিহ্ন ভেসে উঠছে।
সোমবার একাত্তর খুঁজে পায় এমন এক পরিবার, যাদের অভিভাবককে ১২ দিন আগে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় সীমান্ত থেকে।
পালংখালীর আঞ্জুমান পাড়া সীমান্তের এক গৃহবধুর নিরব বিলাপ স্বামীকে ফিরে পাওয়ার জন্য। তার স্বামী মোস্তাফিজুর রহমান ১২ দিন আগে আঞ্জুমান সীমান্তের খালে মাছ ধরতে গেলে, তাকে ধরে নিয়ে যায় মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি।
মোস্তাফিজুরের স্ত্রী একাত্তরকে বলেন, তার স্বামী ছাড়া পরিবারের দেখভালের আর কেউ নেই।
মোস্তাফিজুরের সন্তান মোস্তাফা কামাল বললেন, বাবাকে খুঁজে পেতে অনেক জায়গায় ধরনা দিয়েছেন, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটাই আবেদন, আমাদের পরিবারের আব্বু ছাড়া কেউ নেই্
১২দিন আগে মোস্তাফিজুর রহমানের মাছ ধরতে গিয়েছিলে তার এক বন্ধু। সেদিন সীমান্তে কিভাবে কারা মোস্তাফিজ কে অপহরণ করেছিল জানালেন তিনি।
তিনি বলেন, মোস্তাফিজকে মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর লোকজন সুন্দর করে ডেকে নিয়ে যায়। কিন্তু তারপর আর ছাড়েনি।
সীমান্তের বাসিন্দারা বলছেন, কৃষি কাজ ও মাছ ধরাই তাদের জীবিকা। কিন্তু মিয়ানমারে দু'পক্ষের সংঘর্ষে তারা বেকার হয়ে ঘরে পড়ে আছেন। পুরো অঞ্চলজুড়ে এখন অপহরণ ভয়। প্রশাসন কিছু করছে না বলেও অভিযোগ তাদের।
তবে সীমান্ত পরিদর্শনে এসে পুলিশের চট্টগ্রাম বিভাগের ডিআইজি নুরে আলম মিনা বললেন, তারা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তায় সজাগ আছেন। মিয়ানমারের অভ্যন্থরীণ সংঘর্ষে এদেশে কোন ঝুঁকি নেই।
তিনি বলেন, অন্য গোয়েন্দা সঙস্থা আছে। আমাদেরও গোয়েন্দা আছে। সব তথ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি। অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা নিয়ে কোনো ভীতির কারণ দেখছি না।
এদিকে উখিয়ার রহমতের বিল সীমান্ত থেকে আটক ২৩ অস্ত্রধারীর মধ্যে ২২ জনকে তিনদিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
গত অক্টোবর থেকে জাতিগত বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর আক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে মিয়ানমারের সামরিক টহল চৌকি, অস্ত্রাগার ও বেশ কিছু শহরের নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে বিদ্রোহীদের হাতে। সম্প্রতি এই সংঘাত আরো বেড়েছে।
সরকারি বাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহীদের রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের মধ্যে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সংখ্যাও বাড়ছে।
মিয়ানমারে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরকান আর্মি ও আরকান সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের হাত থেকে প্রাণ বাঁচাতে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিপি), মিয়ানমার সেনাবাহিনী, পুলিশ, ইমিগ্রেশন সদস্য ও অন্যান্য সংস্থার ৩৩০ জন সৈন্য বিজিবির কাছে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আশ্রয় গ্রহণ করে। দু’দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে আলোচনার পর তাদের ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়। এরইমধ্যে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।