সোমালিয়ান জলদস্যুর কবলে পড়া বাংলাদেশী জাহাজসহ ২৩ নাবিকের মধ্যে একজন ইব্রাহিম খলিল উল্লাহ বিপ্লব তার স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। বুধবার সকালে স্ত্রীর ফোনে কল করে তার সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
বিপ্লবের ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার মাতুভূইয়া ইউনিয়নের মুমারিজপুর গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে। ফেনী শহরের নাজির রোডে ভাড়া বাসায় থাকে তার পরিবার।
বিপ্লবের স্ত্রী উম্মে সালমা জানান, জাহাজ জলদস্যুর কবলে পড়ার খবর শোনার পর থেকে উদ্বিগ্ন পুরো পরিবার। সকালে বিপ্লবের সঙ্গে কথা হয় তার। হঠাৎ স্বামীর ফোন পেয়ে একটু স্বস্তি পেয়েছে পরিবার। তবে, খুব বেশিক্ষণ কথা বলার সুযোগ হয়নি বলে জানান তিনি।
তিনি জানান, জলদস্যুরা আটকের পর মোবাইল ফোন নিয়ে গেলেও ব্যাগে থাকা একটি পুরনো ভাঙা মোবাইল দিয়ে কল করেছেন তিনি। কথা বলা পর্যন্ত তারা নিরাপদে ছিলেন বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, জলদস্যুরা তাদের সোমালিয়ার দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিপ্লব। তবে খারাপ ব্যবহার করছে না। দুই ছেলে রেদওয়ান ও রিহানের কথা জানতে চান তিনি। তাদের ভালোমতো দেখে রাখার কথাও বলেন তিনি। দোয়া চান নিজের জন্য এবং পরিবারের সবাইকেও তার কথা জানাতে বলেন।
একপর্যায়ে বিপ্লব ফোনে কথা বলছে বুঝতে পেরে সে ফোনটিও কেড়ে নেয় জলদস্যুরা। এরপর থেকে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।
বিপ্লবকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে সরকারের কাছে দাবি জানান তার স্ত্রী।
কয়লা বোঝাই করে মোজাম্বিক থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাওয়ার পথে মঙ্গলবার সোমালি জলদস্যুদের কবলে পড়ে বাংলাদেশে কবির গ্রুপের মালিকানাধীন জাহাজ ‘এমভি আবদুল্লাহ’। এরপর জাহাজটিকে সোমালিয়ার উপকূলের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে জানান নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমোডোর মোহাম্মদ মাকসুদ আলম।