ফেনীতে এক ত্রিমুখী সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর। প্রত্যক্ষদর্শীদের বায়ানে জানা যায়, প্রথমে একটি অ্যাম্বুলেন্সকে বাসের ধাক্কা এবং সেই ঘটনা নিয়ে ঝগড়ার মধ্যেই পেছন থেকে আসা দ্রুতগতির একটি ‘স্লিপার বাস’ দাঁড়িয়ে থাকা বাস ও মোটরসাইকেলগুলোকে চাপা দিলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
রোববার (২২ মার্চ) ভোর চারটার দিকে ফেনীর রামপুর এলাকায় এই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে দুইজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন—ঢাকার লালবাগের মুজিবুর রহমানের ছেলে মোহাম্মদ সোহাগ (৩৮) এবং হাতিরঝিল এলাকার মোখলেছুর রহমানের ছেলে মোহাম্মদ মোরশেদ (৩৮)। নিহত দুইজনই পেশায় ব্যবসায়ী। অন্য একজনের (৩৮) পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
দুর্ঘটনায় আহতরা হলেন— নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের দীপু ও উজ্জ্বল, ফেনী সদর উপজেলার দুর্জয়, পুরান ঢাকার মোহাম্মদ রানা এবং পাবনার মোহাম্মদ সবুজ।
আহত মোহাম্মদ সবুজ বর্তমানে ফেনী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বাকিদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনজনকে ঢাকা পাঠানো হয়েছে এবং একজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
হাইওয়ে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, মহাসড়কের রামপুর এলাকায় ব্রিজের সংস্কার কাজ চলায় চট্টগ্রামমুখী লেনে গতিরোধক দেওয়া হয়েছিলো। ভোরে একটি অ্যাম্বুলেন্স গতিরোধক পার হওয়ার সময় ধীরগতিতে চলছিলো। এসময় পেছন থেকে ‘শ্যামলী পরিবহন’ নামের একটি বাস অ্যাম্বুলেন্সটিকে ধাক্কা দেয়।
এই ঘটনা নিয়ে বাস ও অ্যাম্বুলেন্স চালকের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হলে পেছনের দুটি মোটরসাইকেল আরোহী এবং আরও দুটি বাস সেখানে দাঁড়ায়। ঠিক সেই মুহূর্তেই পেছন থেকে আসা দ্রুতগতির ‘দোয়েল পরিবহন’ নামের একটি স্লিপার বাস দাঁড়িয়ে থাকা বাস ও মোটরসাইকেলগুলোকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুইজন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও একজন মারা যান।
ফেনী সদর হাসপাতালের চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে আনার আগেই দুইজন মারা গিয়েছিলেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় রেফার করা হয়েছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় ব্যবসায়ী জাবেদ অভিযোগ করেন, সড়ক বিভাগ স্পিডব্রেকার দিলেও কোনো মার্কিং বা সঙ্কেত দেয়নি, যার ফলে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফেনী সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীতি চাকমা। তিনি বলেন, ব্রিজ মেরামতের জন্য ১৫ দিন আগেই স্পিডব্রেকার দেওয়া হয়েছিলো এবং সেখানে সাদা রঙের মার্কিং করা আছে।
মহিপাল হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট কাজল কান্তি নাথ জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চারটি বাস ও দুটি মোটরসাইকেল জব্দ করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
