শিক্ষক সংকটে ঐতিহ্য হারাতে বসেছে কম্পিউটার ইনস্টিটিউট। ফেনী কম্পিউটার ইনস্টিটিউটে ৬৩ জন শিক্ষকের পদ থাকলেও কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১১ জন শিক্ষক। এতে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। আবার ইনস্টিটিউটে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের আওয়াতাধীন সমাপ্ত স্টেপ প্রকল্পের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া ১৫ জন শিক্ষকের বেতন ভাতা বন্ধ চার বছর ধরে।
তবে, প্রতিষ্ঠান প্রধান বলছেন, দ্রুতই এই সংকটের সমাধান হবে।
আধুনিক প্রযুক্তির কারিগরি শিক্ষা প্রসারে ২০০৩ সালে ফেনী সদর উপজেলার রানীরহাটে প্রতিষ্ঠা করা হয় ফেনী কম্পিউটার ইন্সটিটিউট। এসএসসি’র পর চার বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং-এর শিক্ষা দেয়া হয় এখানে।
ইন্সটিটিউটে রাজস্ব খাতে শিক্ষকের পদ ৬৩টি, কিন্তু এপর্যন্ত নিয়োগ দেয়া হয়েছে মাত্র ১১ জন। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের একটি প্রকল্পের আওতায় নিয়োগ পান আরও ১৫ জন শিক্ষক। কিন্তু প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় গত চার বছর ধরে বেতন পাচ্ছেন না তারা।
ফেনী কম্পিউটার ইনস্টিটিউটের জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর মোবারাহ আক্তার নীরা জানান, তাদের দৈনন্দিন প্রয়োজনই মিটছে না। বেতন-ভাতার এ সমস্যা সম্পর্কে অর্থমন্ত্রণালয় জানে।
কম্পিউটার ইনস্টিটিউটের ইন্সট্রাক্টর মো. নকিবুল হাসান জানান, সরকারের সুদৃষ্টি পেলেই তাদের সমস্যার সমাধান মিলবে।
ইন্সট্রাক্টর মো. আবদুস ছোবহান শামীমের দাবি, বার বার আশ্বাস মিললেও তারা সমাধান পাননি।
বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় এক হাজার দুইশ’। অথচ শিক্ষকের সংখ্যা রাজস্ব খাত ও মেয়াদোত্তীর্ণ প্রকল্পে নিয়োগ পেয়েছেন মাত্র ২৬ জন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শিক্ষক স্বল্পতায় তারা ঠিকমত ক্লাস করতে পারেন না।
এদিকে প্রতিষ্ঠানটিতে নতুন করে সিভিল ও ইলেকট্রিক্যাল টেকনোলজি চালুর উদ্যোগের কথা জানান অধ্যক্ষ। দ্রুত শিক্ষক সংকট কেটে যাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
ফেনী কম্পিউটার ইনস্টিটিউট অধ্যক্ষ মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আলোচনা করে আমাদের সংকট জানানোর চেষ্টা করছি।
মেয়াদোত্তীর্ণ প্রকল্পের শিক্ষকদের স্থায়ী নিয়োগের মত সুসংবাদ আসবে বলেও জানান প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ।