লক্ষ্মীপুরের আতঙ্ক রহমত আলী খাল, বন্যার অবনতি

লক্ষ্মীপুরের জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে নোয়াখালীর রহমত আলী খাল। এই খাল দিয়ে অনবরত পানি ঢুকে লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। সঙ্গে রয়েছে বৃষ্টি। তাছাড়া নোয়াখালীর মুছাপুর স্লুইস গেট ভেঙে পড়ায় এর প্রভাব লক্ষ্মীপুরে পড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, লক্ষ্মীপুরে টানা বৃষ্টি ও বন্যায় প্রায় আট লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছেন প্রায় ২৩ হাজার মানুষ। তবে বেশির ভাগ মানুষ কষ্ট করে বাড়িঘরেই রয়েছেন। বাকিরা আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে ঠাঁই নিয়েছেন।

এদিকে জেলার দুর্গম এলাকাগুলোতে ত্রাণের জন্য হাহাকার চলছে বলে জানা গেছে। ওই এলাকাগুলোতে ত্রাণ পৌঁছাতে পর্যাপ্ত নৌকার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। 

ক্ষতিগ্রস্তরা বলছেন, জেলার বিস্তীর্ণ জনপদ এখন পানি নিচে তলিয়ে আছে। ডুবে গেছে বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, ক্ষেত ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। কোথাও কোথাও চার থেকে পাঁচ ফুট পানি রয়েছে। 

জেলা সদর, রায়পুর, রামগঞ্জ, রামগতি ও কমলনগর উপজেলার ৫৮টি ইউনিয়নের প্রায় প্রত্যেকটি এলাকাতেই পানি ঢুকে পড়েছে। মানুষ রয়েছে খাদ্য সঙ্কটে।

লক্ষ্মীপুরে বন্যা কবলিত এলাকাগুলো হলো- সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ, দিঘলী, চরশাহী, উত্তর জয়পুর, মান্দারী, দত্তপাড়া, বাঙ্গাখাঁ, লাহারকান্দি, তেওয়ারীগঞ্জ, ভবানীগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের রহমতখালী খাল সংলগ্ন লামচরী, সমসেরাবাদ, বাঞ্চানগর, মধ্য বাঞ্চানগর, মজুপুর, চররুহিতা, পার্বতীনগর।

কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জ, চরকাদিরা, রামগতির চরপোড়াগাছা, চরবাদাম। রামগঞ্জের লামচর, কাঞ্চনপুর, চন্ডিপুর, ভাটরা, ভোলাকোট, রামগঞ্জ পৌরসভা, ভাদুর, করপাড়া, দরবেশপুর, রায়পুরের সোনাপুর, কেরোয়া, চরপাতা, বামনী, চরমোহনা, রায়পুর, দক্ষিণ চরআবাবিল ইউনিয়ন ও রায়পুর পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা ইউনুস মিয়া জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ১৫৫ মেট্রিক টন জিআর চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে জেলার সদর উপজেলায় ৩০ মেট্রিক টন, রায়পুরে ২৫ মেট্রিক টন, রামগঞ্জে ৫০ মেট্রিক টন, রামগতিতে ২০ মেট্রিক টন ও কমলনগরে ৩০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১০ লাখ নগদ টাকা (জিআর ক্যাশ) ও প্রত্যেক উপজেলার জন্য দুই লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।।

লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নাহিদ-উজ জামান খান জানান, রহমতখালী খাল হয়ে নোয়াখালীর পানি লক্ষ্মীপুরে অনবরত ঢুকছে। মুছাপুরের স্লুইস গেট ভেঙে গেছে। এতে এর একটি অংশের পানি বেগমগঞ্জ হয়ে লক্ষ্মীপুরে প্রবেশের সম্ভাবনা রয়েছে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জেপি দেওয়ান জানান, জেলার বর্তমানে সাত লাখ ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছেন ২৩ হাজার ৪০৪ জন। এখন পর্যন্ত ৯ হাজার ৯৪৩ প্যাকেট শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে খিচুড়ি রান্না করে পরিবেশন করা হচ্ছে।

গত ২৩ আগস্ট থেকে নোয়াখালীর বন্যার পানি লক্ষ্মীপুরে ঢুকতে শুরু করে। পরের দিন ২৪ আগস্ট শনিবার বিকেল থেকে পানির চাপ বেড়ে যায়। এর মধ্যে লক্ষ্মীপুরে বৃষ্টিও অব্যাহত রয়েছে। ফলে পুরো জেলায় প্রায় আট লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।