লক্ষ্মীপুরে গোখাদ্যের তীব্র সঙ্কট

বন্যার পর লক্ষ্মীপুরে গবাদি পশুর তীব্র খাদ্য সঙ্কট দেখা দিয়েছে। বন্যায় ঘাস, খর নষ্ট হওয়ায় বিপাকে কৃষক ও খামারি। প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্য বলছে, এবারের বন্যায় জেলায় ৫৮টি গরু-ছাগল, এক লাখ ৭০ হাজার হাঁস-মুরগি, ১৭টি ভেড়া এবং একটি মহিষ মারা গেছে। এছাড়া বন্যায় ক্ষতি হয়েছে ১১ কোটি ৬৫ লাখ ১২ হাজার ৫০০ টাকারও বেশি। তবে এই পরিমাণ ১৫ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলেও মনে করা হচ্ছে। 

কৃষক ও খামারি বলছেন, দীর্ঘ দিন পানিবন্দি থেকে নিজেদের খাবার জোগাড়ে যেখানে হিমশিম অবস্থা, সেখানে গবাদি পশুর খাবার জোগাড় করা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। তার ওপর রয়েছে রোগবালাই। 

২১ আগস্টের পর থেকে টানা ভারী বর্ষণে লক্ষ্মীপুর জেলা সদর, রামগতি, কমলনগর,  রামগঞ্জ ও রায়পুর উপজেলা বন্যার কবলে পড়ে। বেশ কয়েকদিন স্থায়ী হওয়া এই বন্যায় এখনও অনেক এলাকা তলিয়ে আছে। খাল-বিল ডুবে থাকায় দেখা দিয়েছে গো খাদ্যের সঙ্কট। 

সদর উপজেলার পূর্ব দিঘলী ভুঁইয়া বাড়ির কৃষক হেলাল উদ্দিন জানান, বন্যায় ছয়টি গরু নিয়ে পরিবার সমেত বাড়ি থেকে অদূরে দিঘলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে আছেন। একইভাবে আরেক প্রতিবেশী সিরাজ মিয়া তিনিও একই কেন্দ্রে সাতটি গরু নিয়ে উঠেছেন। আরেকজন ফরিদা বেগম তিনি দুটি ছাগল নিয়ে উঠেছেন ওই কেন্দ্রে। 

হেলাল উদ্দিন বলেন, বাড়িতে বুক পরিমাণ পানি উঠেছিল। এখনও উঠানে পানি আছে, ভেঙে গেছে গোয়াল ঘর। নিজেরা স্বজনদের বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নিতে পারতাম। কিন্তু গরুগুলো নিয়ে পড়েছি বিপদে। তাই এখানে পরিবারসহ গরুগুলোকে নিয়ে উঠেছি। 

খামারি সিরাজ মিয়া বলেন, আমার ১৩টি গরু। আশ্রয়কেন্দ্রে সাতটি নিয়ে উঠতে পেরেছি। বাকি ছয়টি অন্য একজনের বাড়ির উঠানে রেখে এসেছি। গরুগুলোর খর-ঘাসসহ খাবারের মারাত্মক সঙ্কটে পড়েছে। তিনি আরও বলেন, পাশের বাজার থেকে আধা কেজি করে খৈল কিনে এনে সামান্য কিছু ভেজা খরের সঙ্গে মিশিয়ে গরুকে খেতে দেই। এভাবে আর বেশি দিনও চলা যাবে না। এদিকে গরুগুলো অর্ধাহারে আর পানির কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। প্রাণিসম্পদের কারও সঙ্গে যোগাযোগও করতে পারছি না। গরুগুলোর কোনো চিকিৎসা করাতেও পারছি না।

একই কথা জানান, গিয়াস উদ্দিন, মিনহাজ, সদর উপজেলার ফারুক, আব্দুল আজিজসহ অনেকেই। তাদের আরও অভিযোগ, এমন পরিস্থিতি দানাদার খাদ্যগুলো দামও বেড়েছে।