লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম ওরফে জহির (৫০) হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলায় ১৩ জনের নামসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) দুপুরে নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী আইরিন আক্তার বাদি হয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
দাবির অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, হত্যার আধা ঘণ্টা পর অভিযুক্ত ছোট কাউছার তার ব্যক্তিগত ফেসবুক ক্রিকেট খেলার একটি ভিডিও পোস্ট করেন। ক্যাপশনে লেখেন, ‘আউট’। ওই পোস্টকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা হয়।
পরিবারের অভিযোগ, ভিডিওটি হত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত দেয়।
এদিকে রোববার (১৬ নভেম্বর) রাতে পশ্চিম লতিফপুর এলাকা থেকে কাউছারের তিন সহযোগী হুমায়ূন কবির সেলিম (৫০), ইমন হোসেন (২১) ও আলমগীর হোসেনকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
এর আগে শনিবার (১৫ নভেম্বর) রাত সাড়ে আটটার দিকে পশ্চিম লতিফপুরের মোস্তফার দোকান এলাকায় দুর্বৃত্তরা জহিরকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে। ঘটনাস্থলে জহিরের মৃত্যুর পর দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ছাত্রদল কর্মী ছোট কাউছারের সঙ্গে বিএনপি নেতা আবুল কালামের আধিপত্য বিস্তার ও অন্তঃকোন্দল নিয়ে বিরোধ চলছিলো। কাউছারের বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। অন্যদিকে, নিহত জহিরের বিরুদ্ধেও মাদকের সাতটি মামলা আছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, এলাকায় দাপট দেখিয়ে চলাফেরা করতেন পিচ্চি কাউছার। আধিপত্য বিস্তার ও পুরনো বিরোধের জেরে এই হত্যা।
চন্দ্রগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ফয়েজুল আজীম বলেন, তদন্তে কাউছারের ফেসবুক পোস্টটি গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই হত্যার পেছনের কারণ ও জড়িত সব ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হবে।