ভোটকেন্দ্র দখলের সুযোগ নেই, মোবাইল ব্যাংকিংয়ে নজরদারি: ইসি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র দখল করে ফল আদায়ের কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোটকে বাংলাদেশের ইতিহাসে অনন্য ঘটনা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল এবং ভিজিলেন্স ও অবজারভেশন টিমের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

নির্বাচন কমিশনার বলেন, আমাদের কোনো পক্ষপাত নেই। সাধারণ মানুষ যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন এবং তার ভোট যেন অন্য কেউ দিতে না পারেন—এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য।  

প্রশাসন এবং ভিজিলেন্স ও অবজারভেশন টিমের উদ্দেশে তিনি বলেন, এই নির্বাচন একটি আনন্দময় ঘটনা হবে। এখানে যেন কোনো প্রকার ভয়ভীতি বা ত্রাস সৃষ্টি করতে না পারে। যারা নির্বাচনকে সামনে রেখে ভয়ভীতি সৃষ্টি করতে চায়, তারাই যেন ভয় পায়—এটাই আমাদের দায়িত্ব।

তিনি আরও বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ে ছয়টি টিম কাজ করবে। কারণ এই নির্বাচন দেশের ভাবমূর্তি, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর গৌরব, জনগণের আস্থা, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। গণতান্ত্রিক ঘাটতি থাকলে একটি দেশের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। 

নির্বাচনের সময় মোবাইল ব্যাংকিংয়ের অপব্যবহার প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার বলেন, অনেকেই নির্বাচনের সময় মোবাইলের মাধ্যমে টাকা লেনদেন করেন। এজন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের বিকাশ, নগদ ও রকেটসহ সব ধরনের মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেনের ওপর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো অসামঞ্জস্য লেনদেন হলে তা তদন্ত করতে হবে।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পেশাদার সাংবাদিকদের বাইরে অপেশাদার কেউ যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রে কোনো কলম ব্যবহার করা যাবে না, শুধু পেনসিল ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় পুলিশ সুপার আবু তারেকসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।